বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

প্রস্তুত আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন কাল ওপারে যাবে ট্রেন, বুধবার উদ্বোধন

বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ।    
  • Update Time : সোমবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১২১ Time View
বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : পুরোপুরি প্রস্তুত আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন। আজ সোমবার বাংলাদেশ থেকে ওপারে অর্থাৎ ভারতের আগরতলায় পরীক্ষামূলক ট্রেন যাবে। আন্তর্জাতিক এ রেলপথটি উদ্বোধন হবে আগামী ১ নভেম্বর বুধবার। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। 

উল্লেখিত রেলপথে ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। প্রথমে মালবাহী ও পরে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন নূরুল ইসলাম সুজনসহ সংশ্লিষ্টরা। যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করলে আগরতলা-কলকাতা পথের দূরত্ব অনেক কমে যাবে। এতে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ার পাশাপাশি পর্যটনেও যাত্রী বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।  দুই দেশের এ রেলপথের দৈর্ঘ্য ১২.২৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ৬.৭৮ কিলোমিটার। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ৪৭৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ৫৭ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং ভারতীয় ঋণ ৪২০ কোটি ৭৬ লাখ কোটি টাকা।

গত ১৬ আগস্ট ‘গ্যাং কার’ বা ‘ট্র্যাক কার’ চালানো হয়।  ‘গ্যাং কার’ নামে পরিচিত ‘ট্র্যাক কার’ বিশেষ আকৃতিতে নির্মিত রেলের ‘ইঞ্জিন’। এর সঙ্গে দু’টি বগি সংযুক্ত করে উল্লেখিত পথে চালানো হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর চালানো হয় মালবাহী ট্রেন। তবে এগুলো শুধুমাত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মনিয়ন্দের শিবনগর পর্যন্ত চলাচল করে। ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ প্রকল্প নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রথমে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ১৮ মাস। এরপর করোনার প্রভাবসহ নানা কারণে পাঁচ দফা এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ নির্মাণ কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী বছরের জুন নাগাদ করা হয়েছে।

সরজমিনে ঘুরে জানা যায়, রেলপথ বসানোর কাজ পুরোপুরি শেষ হয় মাস খানেক আগেই। আনুষাঙ্গিক অন্যান্য ফিটিংস লাগানোর কাজ শেষ হয় কিছুদিন আগে। শেষ মুহুর্তের ঘঁষামাজা দেখতে চলতি মাসে সংশ্লিষ্ট একাধিক দল আখাউড়ায় আসেন। এ মাসেই ঢাকায় রেলভবনে হওয়া এক বৈঠকে ১ নভেম্বর প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার সময় নির্ধারণ করা হয়। একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ি, ভারত-বাংলাদেশ এর মধ্যে রেলওয়ের এ সংযোগ প্রকল্পটি চালু হলে মূলত ভারতীয়রাই বেশি লাভবান হবেন। বিশেষ করে ভারতীয়রা আগরতলা থেকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে কলকাতা গেলে বর্তমানের চেয়ে তিনভাগের এক ভাগ সময় কম লাগবে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, মাস দু’য়েক আগেই রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়। এরপর থেকেই অপেক্ষা ছিলো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের। কিন্তু নানা কারণে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক করা যাচ্ছিল না। অবশেষে দু’দেশের মধ্যে আলোচনাক্রমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করা হয়। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে চিঠি এসেছে। পরীক্ষামূলক ট্রেনে করে সংশ্লিষ্ট ছয়জন বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাবেন। বেলা ১১টায় গঙ্গাসাগর স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে যাবে। ইতিমধ্যেই ১০ বগির ওই মালবাহী ট্রেন এসে পৌঁছেছে।    

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৩০ অক্টোবর ২০২৩,/দুপুর ১২:৩২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit