রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ন

পুলিশের দুই এস আই ক্লোজড চৌগাছায় সন্তান বিক্রির ৭০ হাজার টাকা ভাগাভাগি!

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ।
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৩৮৫ Time View

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় পরকীয়া প্রেমের ফসল এক কন্যা সন্তান ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি। টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন পুলিশ ও পরকীয়া প্রেমিক। বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর)এ ঘটনায় চৌগাছা থানার দুই এস আইকে ক্লোজড করা হয়েছে। চৌগাছা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায় ২ অক্টোবর চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় এক নবজাতক। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর ওই নারী লোক লজ্জার ভয়ে বিক্রি করে দেয় নিজের সন্তানকে। বিষয়টি এ সময়ই সকলের নজরে আসে । ভুক্তভোগী নারী সোনিয়া খাতুন আন্দুলিয়া গ্রামের ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী। সোনিয়ার বাবার বাড়ি উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামে। ইলিয়াস হোসেনেরে সাথে বিবাহ হওয়ার পর থেকে ইলিয়াস সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের আন্দুলিয়া গ্রামে মামা মশিউর রহমানের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তাদের ৫ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে। সোনীয়া জানান, তার স্বামী এক বছর আগে অবৈধভাবে ভারতে য়ায়। সেখানে কারনে তিনি বিএসএফ এর হাতে আটক হয়। বর্তমানে সাঈদ ভারতের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছে।

এদিকে স্বামী বাড়িতে না থাকায় সোনিয়া স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিদুল ইসলাম ও আবু সাঈদের সাথে পরকীয়া স¤পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সোনিয়া গর্ভবতী হয়ে পড়লে পরকীয়া দুই প্রেমিক তার পাশ থেকে সরে পড়ে। এ সময় তারা ঐ নারীর গর্ভপাত করার চেষ্টাও করেন । ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি লুকিয়ে রাখতে ইউপি সদস্য মহিদুল ইসলাম ও আবু সাঈদ সোনিয়াকে বাড়ি থেকে নিয়ে স্থানীয় পুড়াপাড়া বাজারে ঘরভাড়া করে রাখেন। পরে ২ অক্টোবর চৌগাছা সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সোনিয়া একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়।

সন্তান জন্মের পরে একটি মাধ্যমে টেঙ্গরপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে নিঃসন্তান মুকুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ হয়। পরে মুকুল হোসেনের কাছে নবজাতক শিশুটি কথিত পুলিশের সোর্স আন্দুলিয়া গ্রামের রাকিব হোসেন শিশুটিকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। জানতে চাইলে মুকুল হোসেন বলেন, ৪ অক্টোবর তিনি কোর্টের মাধ্যমে শিশুটি দত্তক নিয়েছেন। ৭০ হাজার টাকার ব্যপারে তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে শিশু কেনা-বেচা হয়নি। তাদের সাময়িক খরচের জন্য কিছু টাকা দিয়েছি। একটি অসহায় শিশুকে আমি নিয়েছি।

এদিকে এ ঘটনায় ২৪ আক্টোবর রাতে আন্দুলিয়া গ্রামের আবু সাঈদকে ধর্ষণ মামলার ভয় দেখিয়ে চৌগাছা থানার এস আই শামিম হোসেন ও এস আই সৈয়দ আশিক সোনিয়াকে তার সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দিয়ে তার ঘরে তুলে দেয়। পুলিশকে এ কাজে সহযোগীতা করেন ইউপি সদস্য মহিদুল ইসলাম। এলাকাবাসী বলছে ইউপি সদস্য মহিদুল নিজের অপরাধের দায়ও আবু সাঈদের উপরে চাপিয়ে দিয়েছে । নবজাতকের ডিএনএ টেষ্ট করলেই প্রকৃত অপরাধী ধরা পড়বে।

এ ঘটনায় সন্তান বিক্রির টাকা আত্মসৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে চৌগাছা থানার এসআই শামীম হোসেন ও এসআই সৈয়দ আশিককে ক্লোজড করা হয়েছে। চৌগাছা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৬ অক্টোবর ২০২৩,/রাত ৮:০৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit