আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বের অনেক দেশ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের কথা ভাবতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) সচিব মোহসেন রেজাই।
তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।
মোহসেন রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড অনেক দেশকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।
তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্যপদ এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) কোনও দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে পারবে না- এমন ধারণা তৈরি হওয়ায় বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “ইরানের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে অবিবেচক কর্মকাণ্ডের পরিচয় দিয়েছেন, তা বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষাকে আরও উসকে দিয়েছে।”
রেজাইয়ের দাবি, কোনও দেশ আন্তর্জাতিক পরমাণু নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর অংশ হয়েও যদি সামরিক হামলা থেকে নিরাপদ না থাকে, তাহলে অন্য দেশগুলোও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পথ বেছে নিতে পারে।
আলোচনা ও কূটনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ
ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগও তুলেছেন।
রেজাই বলেন, “আমেরিকানরা আলোচনা ও কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এমনকি ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকে নিজেদের দেওয়া স্বাক্ষরও তারা লঙ্ঘন করেছে।”
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন আচরণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে কোনও দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে হিসাব করতে পারে।
সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী সময়ে মার্কিন প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের অভিযোগের পর ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন রেজাই।
তিনি বলেন, “আলোচনা এবং ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের পর বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক পদ্ধতিতে সংস্কার আনতে হবে।”
রেজাইয়ের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তেহরান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও কঠোর অবস্থান নিতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা কৌশলও নতুন বাস্তবতার আলোকে পুনর্বিন্যাস করার কথা ভাবছে ইরান।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে রেজাইয়ের সর্বশেষ মন্তব্য আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তার বক্তব্য মূলত এই বার্তাই দিচ্ছে যে, তেহরানের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ শুধু ইরানকেই নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোকেও আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। সূত্র: তাস
কিউএনবি/অনিমা/২৩ অগাস্ট ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৫০