স্টাফ রিপোর্টার,ঢাকা : রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কেবল আশ্বাস বা বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি।

আজ ৭ অক্টোবর(২০২৬) বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ ও ‘ক্রিমিনোলজি রিসার্চ ফোরাম’ আয়োজিত “Uncertain Return: Rohingya Voices on Repatriation Barriers” শীর্ষক দিনব্যাপী জাতীয় নীতি নির্ধারণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগ সহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ তাঁর বক্তব্যে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (UNGA) দেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকার উপস্থাপন করেছেন— যার মধ্যে রয়েছে টেকসই প্রত্যাবাসনের একটি নির্ভরযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি, সহিংসতার অবসান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।



প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে একটি ‘জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের উপর অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গারা তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারকে প্রত্যাখ্যান করছে না, বরং তারা যে পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল সেই অনিরাপদ পরিবেশে ফিরে যেতে আপত্তি জানাচ্ছে।”
তিনি টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য নাগরিক পরিচয়, জমি ও সম্পত্তি ফেরত, নিরাপত্তা এবং বিশ্বাসযোগ্য গ্যারান্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “প্রত্যাবাসন হলো একটি বিশ্বাসের প্রক্রিয়া। তারা কোনো অনুদান বা দয়া চাইছে না, তারা তাদের মৌলিক অধিকার চাইছে।এই সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই রয়েছে এবং বাংলাদেশের পক্ষে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই বোঝা বহন করা সম্ভব নয়।
কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা ক্রমবর্ধমান অপরাধ ও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, “কক্সবাজারের পরিবেশ নষ্ট হওয়া বা এই নিরাপত্তাহীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে গবেষক দল জানান, উখিয়ার ১৭টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮১৬ জন উত্তরদাতার উপর এই জরিপটি চালানো হয়। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত অংশীদারদের সাথে ৭২টি বিস্তারিত সাক্ষাৎকারও গ্রহণ করা হয়। বক্তব্য শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
কিউএনবি/আয়শা/০৭ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১১:৫৪