আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত এক বছরে প্রতিরক্ষা অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন দ্বিগুণ করেছে ইরান। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পে উৎপাদন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে বলে জানিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিকের বরাত দিয়ে শনিবার (২২ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক বলেন, দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদের দ্রুত ও টেকসই উৎপাদন ইরানকে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত সরঞ্জাম দ্রুত প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা দিয়েছে।
তালাই-নিক জানান, গত কয়েক বছরে গড়ে তোলা কৌশলগত মজুদের পাশাপাশি ইরানে তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, জায়নবাদী শাসনের চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের সময় দেশটির কয়েকটি প্রতিরক্ষা-শিল্প স্থাপনায় সীমিত হামলা হলেও ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের বার্ষিক উৎপাদন জুলাই ২০২৫ থেকে জুলাই ২০২৬ সময়ে আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।
তালাই-নিক আরও বলেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবির বিপরীতে ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন শুধু অব্যাহতই থাকেনি, বরং যুদ্ধকালীন প্রয়োজনীয় কিছু কৌশলগত ও অগ্রাধিকারমূলক সামগ্রীর উৎপাদন তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে।
তিনি সামরিক তথ্য ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তার ভাষ্য, সম্ভাব্য দুর্বলতা প্রকাশ এবং শত্রুপক্ষকে অতর্কিত হামলার সুযোগ দেওয়া এড়াতে এসব তথ্য গোপন রাখা জরুরি।
তালাই-নিক বলেন, এ কারণেই গত দুই বছর ধরে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প দিবসে সামরিক প্রদর্শনী আয়োজন থেকে বিরত রয়েছে দেশটি। পাশাপাশি নতুন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উন্মোচনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কিউএনবি/অনিমা/২২ অগাস্ট ২০২৬/সন্ধ্যা ৭:৫০