রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পৃথিবীর মতো নতুন গ্রহের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা নির্ভরযোগ্য ডাটা জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি : অর্থমন্ত্রী সূর্যের মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকতে পারে আমাদের পৃথিবী: গবেষণা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের শোক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নাসির উদ্দিন সারোয়ার প্রত্যাহার মহাকাশে একগুচ্ছ নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করলো চীন বোর্ডিং পাস নিয়েও মালয়েশিয়ার ফ্লাইটে উঠলেন না ৬১ যাত্রী! দেনমোহর আদায়ের নীতিমালা তৈরি করতে হাইকোর্টে রিট সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্ব মৌমাছি দিবস আজ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৩৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : বিশ্ব মৌমাছি দিবস আজ (২০ মে)। ২০১৭ সালে আজকের তারিখকে বিশ্ব মৌমাছি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ। ২০১৮ সালের ২০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবার পালিত হয় বিশ্ব মৌমাছি দিবস।

১৭৩৪ সালের ২০ মে আধুনিক মৌমাছি পালনের জনক হিসেবে পরিচিত স্লোভেনীয় মৌমাছি পালক অ্যান্টন জনসার জন্মদিন। তার এই জন্ম তারিখকে স্মরণীয় করে রাখতেই প্রতি বছর ২০ মে বিশ্বজুড়ে বিশ্ব মৌমাছি দিবস পালন করা হয়।

মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী প্রাণীর গুরুত্ব এবং বাস্তুতন্ত্রে তাদের অবদান সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়ানোই এ দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য।

মৌমাছির সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে মৌচাক, মধু ও মোমের নাম। প্রকৃতিতে পরাগায়নের পাশাপাশি মধু ও মোম শিল্পেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে ছোট্ট প্রাণিটি।

মধু, মোম ও ফুলের পরাগায়নের জন্য প্রসিদ্ধ পিঁপড়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত মধু সংগ্রহকারী পতঙ্গবিশেষকে মৌমাছি বলা হয়।

অ্যান্টার্কটিকা ব্যতীত পৃথিবীর সব মহাদেশে যেখানেই পতঙ্গ-পরাগায়িত সপুষ্পক উদ্ভিদ আছে সেখানেই মৌমাছি আছে। বাংলাদেশে সচরাচর যে মৌমাছি দেখা যায় তার বৈজ্ঞানিক নাম এপিস ইন্ডিকা।

ফুলে ফুলে উড়ে মধু সংগ্রহের গুরুদায়িত্ব নিয়ে মৌমাছি সব সময় ছুটে বেড়ায়। কর্মব্যস্ততা, নিয়মানুবর্তিতা এবং পরিশ্রমের যথার্থ উদাহরণ ছোট্ট এই পতঙ্গ। শুধু তাই নয়, মৌচাক নির্মাণে মৌমাছির যে শৈল্পিক মনন, বিজ্ঞানমনস্কতা ও দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়, তাতে পতঙ্গটিকে উঁচু স্তরের শিল্পী বললেও কম বলা হয়।

ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ানোর সময় মৌমাছিরা তাদের পা এবং বুকের লোমের ফুলের অসংখ্য পরাগরেণু বয়ে বেড়ায়। এক ফুলের পরাগরেণু অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়লে পরাগায়ণ ঘটে, যার ফলে উৎপন্ন হয় ফল। এভাবে মৌমাছিরা পরাগায়ণের মাধ্যম হিসাবে কাজ করে ফল ও ফসলের উৎপাদন বাড়ায়।

এ দেশের আবহাওয়া প্রকৃতি অনুযায়ী ক্ষুদে আকৃতির এই মৌমাছি প্রজাতি গাছের কোটরে, দেয়ালের ফাঁটলে ও বাক্স পেটরা ইত্যাদি আবদ্ধ স্থানে বাসা তৈরি করে। এদের উৎপাদিত মধুর মান খুবই উৎকৃষ্ট।
 
প্রতিটি মৌচাকে মৌমাছিরা বসতিবদ্ধ হয়ে একটি বড় পরিবার বা সমাজ গড়ে বাস করে। আকার ও কাজের ভিত্তিতে মৌমাছিরা তিন সম্প্রদায়ে বিভক্ত:

১. রানি মৌমাছি যা একমাত্র উর্বর মৌমাছি
২. পুরুষ মৌমাছি
৩. কর্মী মৌমাছি বা বন্ধ্যা মৌমাছি

বিশ্বে প্রায় ২০ হাজার প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে। মৌমাছিরা উপনিবেশে থাকে। প্রতিটি কলোনির রানী, কর্মী ও ড্রোন রয়েছে। ড্রোনটিতে সমস্ত পুরুষ মৌমাছি থাকে, শ্রমিক মৌমাছি ড্রোনটিকে পরিষ্কার করে। কর্মীরা পরাগ এবং অমৃত সংগ্রহ করে এবং বাচ্চাদের যত্ন নেয়। ড্রোন মৌমাছি কেবল রানী মৌমাছির সঙ্গে সঙ্গম করে। রানী মৌমাছি কেবল ডিম দেওয়ার কাজ করে। মৌমাছিরা গণতন্ত্র অনুসরণ করে। নতুন বাড়ি বাছাই করতে তাদের আলোচনা হয়।

মৌচাক হলো মৌমাছির আবাসস্থল। এটি তৈরি হয় মোম জাতীয় পদার্থ দিয়ে। মৌচাকে ক্ষদ্র ক্ষুদ্র ষড়ভূজ প্রকোষ্ঠ থাকে। মৌমাছি এসব প্রকোষ্ঠে মধু সঞ্চয় করে। এছাড়া, ফাঁকা প্রকোষ্ঠে মৌমাছি ডিম পাড়ে, লার্ভা ও পিউপা সংরক্ষণ করে।

লাখ লাখ মৌমাছির অক্লান্ত শ্রমে মধু তৈরি হয়। মৌমাছিরা ফুলে ফুলে বিচরণ করে ফুলের রেণু ও মিষ্টি রস সংগ্রহ করে পাকস্থলীতে রাখে। তারপর সেখানে মৌমাছির মুখ নিঃসৃত লালা মিশ্রিত হয়ে রাসায়নিক জটিল বিক্রিয়ায় মধু তৈরি হয়। এরপর মৌমাছি মুখ হতে মৌচাকের প্রকোষ্ঠে ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের জন্য তা জমা করে।

মধু মূলত এক প্রকারের মিষ্টি ও ঘন তরল পদার্থ, যা মৌমাছি ও অন্যান্য পতঙ্গ ফুলের নির্যাস হতে তৈরি হয়। এটি উচ্চ ঔষধিগুণ সম্পন্ন সুপেয় একটি ভেষজ তরল। বিশ্বে বাংলাদেশের সুন্দরবনের মধু স্বাদ, রং, হালকা সুগন্ধ এবং ঔষধিগুণাবলীর জন্য প্রসিদ্ধ।

মোমবাতি শিল্পে মৌমাছির অবদান অপরিসীম। কর্মী মৌমাছিরা তাদের পেটের গ্রন্থি থেকে প্রাকৃতিক মোম নিঃসৃত করে মৌচাক তৈরি করে। মৌমাছিরা প্রথমে মধু খেয়ে নিজেদের শরীরের ভেতরের বিশেষ গ্রন্থির সাহায্যে তরল মোম তৈরি করে। এরপর তা নিঃসৃতের পর বাতাসের সংস্পর্শে এসে শক্ত ফ্লেক্সে পরিণত হয়। এটি দিয়েই মৌমাছিরা তৈরি করে মৌচাক।

মৌচাক তৈরির জন্য মৌমাছির দেহ অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া এই মোম প্রকৃতপক্ষে ফ্যাটি এসিডের ইস্টার। মধু সংগ্রহকারীরা মধু সংগ্রহ করার পর মৌচাক গলিয়ে ও ছেঁকে এই মোম আলাদা করে। মোম সংগ্রহ ও পরিশোধনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে মোম শিল্প যেখানে উন্নত মানের, সুগন্ধযুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত মোমবাতি তৈরি করা হয় যা পরিবেশের জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মৌমাছি-পালকদের আবেদনের ভিত্তিতে ১৫ আগস্ট বিশ্ব মৌমাছি দিবসটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাগ্রিকালচার। তাই প্রতি বছর আগস্ট মাসের তৃতীয় শনিবার পালিত হয় জাতীয় মৌমাছি দিবস।

কিউএনবি/অনিমা/২০ মে ২০২৬,/দুপুর ১২:২৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit