বিনোদন ডেস্ক : ভারতের সাম্প্রতিক আলোচিত ছবি ‘ধুরন্ধর ২’মুক্তির পর শুধু বক্স অফিস নয়, আলোচনার কেন্দ্রেও উঠে এসেছে ছবির একটি চরিত্র। দর্শকদের একাংশের দাবি, ছবিতে দেখানো আতীফ আহমদ নামের চরিত্রটি বাস্তবে উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত গ্যাংস্টার-রাজনীতিক আতিক আহমেদ এর আদলে নির্মিত। আর সেই সূত্র ধরেই নতুন করে সামনে আসছে তাঁর জীবনের বিতর্ক, অপরাধজগৎ এবং রাজনৈতিক উত্থানের দীর্ঘ ইতিহাস।
ছবিতে আতীফ নামে যে চরিত্রকে দেখানো হয়েছে, তাকে সীমান্তপারের জঙ্গি যোগাযোগ, জাল নোট চক্র এবং অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত এক প্রভাবশালী অপরাধনেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। চরিত্রটির চেহারা, পোশাক, কথাবার্তা সবকিছুতেই অতীক আহমদের ছায়া খুঁজে পেয়েছেন অনেকে। যদিও নির্মাতারা সরাসরি কোনও নাম উচ্চারণ করেননি, তবু সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক এ কি কেবল অনুপ্রেরণা, নাকি বাস্তব চরিত্রের নাম বদলে উপস্থাপন?
উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের উপকণ্ঠে এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম আতীকের। টাঙা চালিয়ে সংসার চালাতেন তাঁর বাবা। অল্প বয়সেই অভাবকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন তিনি। সেই অভাব কাটানোর আকাঙ্ক্ষা থেকেই কিশোর বয়সে অপরাধের পথে পা রাখা। মাত্র সতেরো বছর বয়সে প্রথম খুনের মামলায় নাম ওঠে পুলিশের নথিতে। এরপর অপহরণ, চাঁদাবাজি, হামলা, খুন ক্রমে একের পর এক অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
অপরাধজগতের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক পরিসরেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন অতীক। নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রথমে বিধায়ক, পরে একাধিকবার নির্বাচিত প্রতিনিধি, তারপর লোকসভার সদস্য ধীরে ধীরে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী নাম হয়ে ওঠেন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে থেকেও নিজের প্রভাব ধরে রেখেছিলেন দীর্ঘ সময়।
তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলার অভিযোগ ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সাবেক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, জেলে থাকলেও তাঁর নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। সীমান্তপারের অস্ত্রচক্র, জঙ্গি যোগাযোগ এবং বড় অপরাধচক্র পরিচালনার অভিযোগও বহুবার উঠেছে, যদিও সব অভিযোগ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
২০২৩ সালে আদালতের নির্দেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই ভাইসহ গুলিতে নিহত হন আতীক। সেই হত্যাকাণ্ড গোটা ভারতে তীব্র আলোড়ন তোলে। তার কিছুদিন আগেই পুলিশের অভিযানে নিহত হয় তাঁর ছেলে। পরিবার, রাজনীতি, অপরাধ সব মিলিয়ে তাঁর জীবন ছিল এক অন্ধকার ও নাটকীয় অধ্যায়।
মৃত্যুর পর তাঁর সম্পদের পরিমাণ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। প্রশাসনের দাবি, তাঁর নামে এবং নিয়ন্ত্রণে থাকা বিপুল সম্পদের মূল্য এক হাজার কোটিরও বেশি। বহু স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
এখন নতুন ছবির প্রেক্ষাপটে আবারও ফিরে এসেছে সেই নাম। একদিকে কেউ বলছেন, বাস্তবের কঠিন সত্যকে পর্দায় আনা হয়েছে। অন্যদিকে পরিবারের অভিযোগ, প্রমাণ ছাড়া গুরুতর অভিযোগকে নাটকীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে চলচ্চিত্রের আলোচনার বাইরে গিয়ে আবারও জনমনে আলোচনায় অতীক আহমদের বহুমাত্রিক ও বিতর্কিত জীবন।
কিউএনবি/আয়শা/২৭ মার্চ ২০২৬,/বিকাল ৪:৩৪