আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের অভিযানে মার্কিন বাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী ও রহস্যময় এক ‘নির্দেশিত শক্তি অস্ত্র’ বা ডাইরেক্টেড এনার্জি ওয়েপন ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী এক নিরাপত্তারক্ষী। তার বর্ণনা অনুযায়ী, এই আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগে মাদুরোর নিরাপত্তারক্ষীরা মুহূর্তের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে পড়েন। মার্কিন বাহিনী কোনো প্রাণহানি ছাড়াই শত শত সেনাকে কাবু করতে সক্ষম হয়।
সেই নিরাপত্তারক্ষী জানান, অভিযানের শুরুতে হঠাৎ তাদের রাডার ব্যবস্থা অকেজো হয়ে যায় এবং আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন দেখা দেয়। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর। এরপর মাত্র ২০ জন মার্কিন সেনা হেলিকপ্টার থেকে নেমে এমন এক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেন, যা তারা আগে কখনো দেখেননি।
নিরাপত্তারক্ষীর ভাষ্যমতে, লড়াই চলাকালীন মার্কিন সেনারা বন্দুকের চেয়েও শক্তিশালী কোনো একটি যন্ত্র থেকে তীব্র শব্দতরঙ্গ বা শক্তির বিচ্ছুরণ ঘটায়। এর ফলে উপস্থিত সবার মধ্যে ভয়াবহ শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়—অনেকের নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে এবং কেউ কেউ রক্তবমি করতে শুরু করেন।
তিনি সেই মুহূর্তের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, মনে হচ্ছিল যেন মাথা ভেতর থেকে ফেটে যাবে। এই রহস্যময় সনিক অস্ত্রের প্রভাবে সেনারা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং তাদের উঠে দাঁড়ানোর মতো শক্তিও অবশিষ্ট ছিল না।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এই অস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ৩ জানুয়ারির ওই অভিযানে তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ১০০ সদস্য নিহত হয়েছেন। সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েক দশক ধরে লেজার বা মাইক্রোওয়েভ ভিত্তিক এমন মারণাস্ত্র থাকলেও, কোনো সরাসরি যুদ্ধে এর ব্যবহার সম্ভবত এটাই প্রথম।
কিউএনবি/মহন/১২ জানুয়ারি ২০২৬,/দুপুর ১২:০৯