আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পিয়ংইয়ং নতুন করে ৫০টি পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন লঞ্চার মোতায়েন করার পর এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. রবার্ট কেলি তার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দাবি করেছেন, উত্তর কোরিয়া বর্তমানে ভয়াবহ নীতিগত সংকটের মুখোমুখি। একদিকে কিম জং উন তার একচ্ছত্র ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছেন, অন্যদিকে যুদ্ধের ময়দানে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে তিনি তার বাহিনীকে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এই দ্বিমুখী অবস্থানই মূলত যুদ্ধের ময়দানে এক বিশেষ ধরনের ধোঁয়াশা (অনিশ্চয়তা) তৈরি করছে যা যে কোনো মুহূর্তে বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিম জং উনের শাসনব্যবস্থা মূলত একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক কাল্টের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল শীর্ষ নেতার হাতেই ন্যস্ত। কিন্তু যুদ্ধের ময়দান অত্যন্ত পরিবর্তনশীল এবং সেখানে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি। যদি যুক্তরাষ্ট্র বা দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে কোনো সংঘাত শুরু হয় তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে কিম হয়তো ফ্রন্টলাইন কমান্ডারদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিতে বাধ্য হবেন। আর এখানেই লুকিয়ে আছে মূল বিপদ। মাঠ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে এ ধরনের বিধ্বংসী অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ চলে গেলে সেটি অপরিকল্পিত পারমাণবিক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
উত্তর কোরিয়া এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলো যখন তাদের চেয়ে শক্তিশালী শক্তির মোকাবিলা করে, তখন তারা পারমাণবিক অস্ত্রকে কেবল প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে নয় বরং যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকার কৌশল হিসেবে দেখে। উত্তর কোরিয়া এখন তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডারকে প্রচলিত কামানের মতো সাধারণ অস্ত্রে রূপান্তরের চেষ্টা করছে। তবে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি রাষ্ট্রে এই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ কিমের ব্যক্তিগত ক্ষমতার কাঠামোর জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দেখা দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত কিম জং উন কি তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবেন নাকি যুদ্ধের ময়দানে জয়ের নেশায় জেনারেলদের হাতে বোতামের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর সংশয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সূত্র: নাইনটিন ফোরটি ফাইভ
কিউএনবি/অনিমা/২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/সকাল ১১:০৯