মশিউর রহমান, আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি : পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাসে পণ্যের বাজার ক্রেতাদের হাতের নাগালে থাকবে এমনটাই হওয়া উচিত। অথচ, রমজান এলেই প্রতিবছরে দ্রব্য মূল্যের সিন্ডিকেট এর রোষানলে কাবু হয়ে পড়েন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
৮ই রমজান পার হলেও সাভার ও আশুলিয়ার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো রয়েছে ঊর্ধ্বগতি। চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, ছোলা, খেজুর ইফতারের নানা উপকরণ সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়তি থাকায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। এতে রমজানের আধ্যাত্মিক প্রশান্তির পরিবর্তে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে বাড়তি আর্থিক চাপ।
সাভার ও আশুলিয়ার বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন ৮০ থেকে ১০০, শসা ৮০ থেকে ১০০, লেবুর হালি ৫০, খেজুর আগের থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে, ব্রয়লার মুরগীর কেজি ২০০টাকা, সোনালি মুরগী ৩০০টাকা ও গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৭৯০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মাছ কেজি প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। এদিকে শাক-সবজি, মাছ-মাংস, চাল-ডাল ও ফলের আড়তগুলোতে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বিক্রেতারা দাম স্থিতিশীল দাবি করলেও ক্রেতাদের অভিযোগ, অধিকাংশ পণ্যের দামই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার চালানোই নাভিশ্বাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, বাজারে সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরবরাহ কম হলে দাম কিছুটা বাড়ে, আর সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসে। বিশেষ করে রমজান মাসে চাহিদা বাড়ায় দাম একটু বাড়ে তবে সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে বলেও জানান তারা। শাকিল নামে এক ক্রেতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, বাইরের দেশগুলোতে পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যে দাম কমে। আর আমাদের দেশে ৯৫% মুসলমান। রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমাতো দূরের কথা। দিগুণ বেড়ে যায়। আমাদেরকে সিন্ডিকেট এর রোষানলে পড়ে না খেয়ে মরতে হবে।
বাজার করতে আসা এলিজা বেগম নামে এক পোশাক শ্রমিক বলেন, দিনদিন দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদেশে কখনও দাম বাড়লে তা কমতে দেখি নাই। দ্রব্যের দাম বাড়লে যে বেতন পাই তা দিয়ে ক্যামনে চলমু আল্লাহই ভালো জানেন। এবিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, রমজানের শুরু থেকেই আমরা বাজার মনিটরিং কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছি। মূল্য বেশী নেওয়ার কারণে আমরা ইতিমধ্যে কয়েক ব্যাবসায়ীকে জরিমানাও করেছি।
এছাড়াও যদি এই ধরনের কোন অভিযোগ পাই, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। রমজানে সাভার ও আশুলিয়ার বাজারগুলোতে এখন ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা। নব নির্বাচিত সরকার দ্রুত বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবেন এমনটাই প্রত্যাশা সাধারন মানুষের।
কিউএনবি/আয়শা/২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:২০