সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬২ Time View

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : নৈতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পন্ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

এআই গ্রহণের মাধ্যমে অধিকার সুরক্ষা, অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার পথনির্দেশক হিসেবে এ প্রতিবেদনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার আইসিটি টাওয়ারে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অডিটোরিয়ামে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই), জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থা, বেসরকারি খাত এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।    

প্রতিবেদনটিতে এআই বিষয়ে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক, আইনগত, সামাজিক ও কারিগরি প্রস্তুতির প্রথম সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়। যেখানে বলা হয়, ডিজিটাল সরকার ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলেছে এবং সরকারি ডিজিটাল সেবার প্রতি নাগরিকদের আস্থার মাত্রাও উচ্চমানের। একই সঙ্গে ঢাকার বাইরে অনিয়মিত ইন্টারনেট সংযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, লিঙ্গভিত্তিক ও দেশের দীর্ঘস্থায়ী ডিজিটাল বৈষম্য, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং তথ্য সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধির ঘাটতির দিকেও প্রতিবেদনে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, বাংলাদেশ এমন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে এখন নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আগামী কয়েক দশক ধরে সমাজকে প্রভাবিত করবে। 

তিনি বলেন, এই প্রতিবেদন আমাদের স্পষ্টভাবে দেখায়, আমরা কোন অবস্থানে আছি এবং কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিচারের বিকল্প না হয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করে এবং নাগরিকদের শোষণ না করে তাদের অধিকার সুরক্ষিত করে।

এ সময় আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী চলমান নীতি-প্রণয়ন প্রক্রিয়ায়, বিশেষ করে জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে এই প্রতিবেদনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নীতি-নির্ধারণ হতে হবে প্রমাণ নির্ভর, অনুমাননির্ভর নয়। তার মতে, এই প্রতিবেদনের ফলাফল স্পষ্ট বিধান প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং এমন সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে, যাতে জনসেবায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা ব্যাখ্যাযোগ্য, জবাবদিহিমূলক এবং জাতীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।

বাংলাদেশে ইউনেস্কো কার্যালয়ের প্রধান ও আবাসিক প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ তার বক্তব্যে প্রতিবেদনকে একই সঙ্গে ‘একটি দর্পণ এবং একটি রূপরেখা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একদিকে শাসনব্যবস্থা, অবকাঠামো, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থার অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন, অন্যদিকে অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ নির্ধারণে সহায়ক সুস্পষ্ট রূপরেখা।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার বলেন, এআই ব্যবধান কমাবে নাকি বাড়াবে তা নির্ভর করবে দেশগুলো এখন কী সিদ্ধান্ত নেয় তার উপর। সংযোগ, দক্ষতা, ডেটা এবং কম্পিউটিং অবকাঠামো শক্তিশালী করা, নির্ভরযোগ্য নিয়ন্ত্রক ও শাসন কাঠামো তৈরি করা এবং জাতীয় সক্ষমতার সাথে এআই কৌশলগুলোকে খাপ খাইয়ে নেওয়া এই সবকিছুই নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে।

এটুআই কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহা. আবদুর রফিক প্রতিবেদনে উত্থাপিত সুপারিশগুলোকে সেবাদানে দৃশ্যমান উন্নতিতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। 

কিউএনবি/অনিমা/২১ নভেম্বর ২০২৫,/সকাল ৭:৫৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

January 2025
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit