জালাল আহমদ, রাজশাহী থেকে : ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ পর্যন্ত আইনজীবীদের সংগঠন ‘ভয়েস অব ল’ইয়ার্স বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত লংমার্চ কর্মসূচি আজ ৭ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৮টায় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে রাজশাহী কলেজে গিয়ে শেষ হয়েছে। লংমার্চে বক্তারা বলেন, ভারত বাংলাদেশের ৫৪টি নদীতে একতরফাভাবে ইচ্ছেমতো পানি দিচ্ছে আবার বন্ধ করছে। এতে বাংলাদেশ চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। সীমান্তে বিএসএফ প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করছে।

ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের সংগঠন “ভয়েস অব লইয়ার্স বাংলাদেশ” এ কর্মসূচি গ্রহণ করে। এই লংমার্চ টি আজ শুক্রবার সকাল আটটায় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে দুপুর সাড়ে এগারোটায় গাজীপুর চৌরাস্তায় গিয়ে থামে। সেখানে পথসভায় বক্তব্য রাখেন গাজীপুর আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ। গাজীপুরের কাশিমপুর, কালিয়াকৈর উপজেলা এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, বাসাইল, কালিহাতি পেরিয়ে যমুনা সেতু অতিক্রম করে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে লংমার্চটি সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে পৌঁছায়।
বিকেল সাড়ে তিনটায় লংমার্চের বহরটি সিরাজগঞ্জে পৌঁছালে জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ তাদের কে স্বাগত জানান।এ সময় সেখানে আলোচনাসভা আয়োজন করা হয়। সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিক সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, ভয়েস অব লইয়ার্স বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আশরাফ উজ জামান, লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাড. শাহ আহমেদ বাদল, সমন্বয়ক দেলওয়ার হোসেন, তাসমিন রানা,সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু,সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, ভারত বাংলাদেশের ৫৪টি নদীতে একতরফাভাবে ইচ্ছেমতো পানি দিচ্ছে আবার বন্ধ করছে। এতে বাংলাদেশ চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। সীমান্তে বিএসএফ প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করছে। তারা খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের সহযোগিতা করছে, আশ্রয় দিয়েছে। পার্বত্য এলাকার সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে মদত দিচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা, রাজনৈতিক অবিশ্বাস ও অভ্যন্তরীণ প্রভাব বিস্তার করছে ভারত। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের সব ধরনের চক্রান্ত নস্যাৎ করা হবে।বক্তব্যে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফ কতৃক সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও ৫৪ টি নদীর পানির ন্যয্য হিস্যা আদায়ের জন্য সরকার কে উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানান।
এ সময় তিনি বলেন,”ভারত ফারাক্কা, তিস্তা ও টিপাইমুখসহ বাংলাদেশের ৫৪টি নদী থেকে একতরফাভাবে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দিয়ে বাংলাদেশ কে পানি বঞ্চিত করছে,যা আন্তর্জাতিক নদী আইনের লঙ্ঘন। বাংলাদেশকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখতেই এমন নীতি গ্রহণ করেছে প্রতিবেশি দেশ ভারত। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের পানিবন্টন চুক্তি হলেও এখনো পানির ন্যয্য হিস্যা বুঝে পায়নি বাংলাদেশ। অথচ কখনো খরায়, কখনো অতি বন্যায় বিলীন হয়েছে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শত শত গ্রাম কিংবা ফসলি মাঠ।
নাটোরে পথসভা: সন্ধ্যা সাতটায় লংমার্চের বহরটি নাটোর শহরের মাদ্রাসা মোড়ে পৌঁছালে সেখানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক সাদেকুর রহমান সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
রাজশাহী কলেজে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়:
রাত ৮টায় লংমার্চের বহরটি রাজশাহী মহানগরে গিয়ে পৌঁছালে রাজশাহী কলেজের মিলনায়তনে সাংবাদিকদের
সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে আইনজীবীরা।এতে বক্তব্য রাখেন ভয়েস অব লইয়ার্স বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আশরাফ উজ জামান, লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাড. শাহ আহমেদ বাদল, সমন্বয়ক এডভোকেট দেলওয়ার হোসেন প্রমুখ।
এ সময় আইনজীবীরা বলেন, “কোন ধরনের চুক্তি ছাড়াই গত প্রায় এক যুগ ধরে ৩৭টি স্থানে পাম্প বসিয়ে ফেনী নদী থেকে অবিরাম পানি তুলে নিচ্ছে ভারত। ফেনী নদীর উৎপত্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হলেও এই নদীর উপর একক আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে তারা। ১৯৭৪ সালে সম্পাদিত ইন্দিরা-মুজিব চুক্তিতে বলা আছে, সীমান্তের শূন্যরেখা হতে উভয় পাশে ১৫০ গজের ভিতরে কেউ কোন স্থায়ী স্থাপনা তৈরি করতে পারবে না। অথচ ভারত সে চুক্তি লঙ্ঘন করে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় এরিয়ায় ফেনী নদীর কূল ঘেঁষে মাত্র ২০ থেকে ৫০ গজের মধ্যে বেআইনীভাবে ৩৭টি পাকা পাম্প হাউজ তৈরি করে পানি তুলে নিচ্ছে। ফলে ফেনী নদী অস্থিত্ব হারাতে বসেছে।”
অনতিবিলম্বে ফেনী নদীসহ ৫৪টি নদীর পানি স্বাভাবিক প্রবাহে বাঁধা প্রদানের কারণে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার করার ও অনতিবিলম্বে পানি বন্টন সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার কে উদ্যোগ নেওয়া আহবান জানান বক্তারা।
কিউএনবি/আয়শা/০৮ নভেম্বর ২০২৫,/রাত ৮:১২