সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন

ভালো জীবনের খোঁজে দেশ ছেড়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের দেশ ছাড়ার খবরটি এখন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার দেশান্তর নয়, বরং দেশটির এক গভীর সংকটের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি সিডনিতে সপরিবারে ঘর খুঁজতে দেখা গেছে আরডার্নকে, যার মধ্য দিয়ে তিনি নিউজিল্যান্ডের বর্তমান ‘গণপ্রস্থান’ বা অভিবাসন জোয়ারের সবচেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। 

তবে কেবল আরডার্ন নন, তার মতো হাজার হাজার মধ্যবয়সী নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এখন ভালো জীবনের আশায় পাড়ি জমাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত চার বছরে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী কিউইদের দেশ ছাড়ার হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। যেখানে আগে কেবল তরুণরা অভিজ্ঞতার জন্য বিদেশ যেত, সেখানে এখন প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার ও পরিবার নিয়ে মাঝবয়সীরা দেশ ছাড়ছেন। 

গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার মানুষ নিউজিল্যান্ড ত্যাগ করেছেন, যা ২০১২ সালের পর সর্বোচ্চ। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবণতা অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগজনক। সাধারণত অত্যন্ত কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি না হলে এই বয়সের মানুষ তাদের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করে দেশান্তরী হন না।

এই প্রস্থান বা এক্সোডাসের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নিউজিল্যান্ডের আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্থবির অর্থনীতি। ওয়েলিংটন থেকে মেলবোর্নে পাড়ি জমানো জেসিন্ডা থর্ন জানান, অস্ট্রেলিয়ায় তার স্বামীর বেতন এক লাফেই ৫০ শতাংশ বেড়েছে, অথচ সেখানে নিত্যপণ্যের দাম এবং চিকিৎসা খরচ নিউজিল্যান্ডের তুলনায় অনেক কম। মেলবোর্নে তাদের সাপ্তাহিক বাজার খরচ ৪০০ ডলার থেকে কমে ২৬৭ ডলারে নেমে এসেছে, আর জ্বালানি ও যাতায়াত খরচ কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। নিউজিল্যান্ডে যেখানে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে অস্ট্রেলিয়ায় একদিনে সেবা মিলছে অনেক কম খরচে।

নিউজিল্যান্ডের বর্তমান অর্থনৈতিক চিত্র বেশ ধূসর। গত দুই বছর ধরে দেশটির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক এবং বেকারত্বের হার গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আবাসন খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে; অকল্যান্ড ও ওয়েলিংটনের মতো শহরগুলোতে ঘরের দাম ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। সরকারি চাকরিতে দফায় দফায় ছাঁটাইয়ের কারণে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে স্থায়িত্ব ও উন্নত ভবিষ্যতের খোঁজে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ বেছে নিচ্ছেন প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়াকে।

যদিও নিউজিল্যান্ডে এখনো ভারত, ফিলিপাইন ও চীন থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী আসছেন, তবে অর্থনীতিবিদ ব্র্যাড ওলসেনের মতে, এটি কোনো সুষম বিনিময় নয়। অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবীরা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় নিউজিল্যান্ডের উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক দশকের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও মেধা হারিয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে দেশটির অর্থনৈতিক ইঞ্জিন সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। যারা দেশ ছাড়ছেন, তারা নিজেদের আজও ‘গর্বিত কিউই’ হিসেবে পরিচয় দেন ঠিকই, তবে স্বদেশের মাটিতে টিকে থাকার মতো ন্যূনতম নিশ্চয়তা না পেয়ে তারা এখন বিদেশের মাটিতেই নতুন করে শিকড় গজানোর চেষ্টা করছেন।

সূত্র: সিএনএন

কিউএনবি/অনিমা/০৮ মার্চ ২০২৬,/সকাল ৬:২৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit