জালাল আহমদ, ঢাবি : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন,“পাপ মুক্ত জীবনের প্রশিক্ষণের মাস হচ্ছে রমজান।সমাজ কে পাপ মুক্ত রাখা ই রমজানের আসল উদ্দেশ্য।পৃথিবীর সবার চোখ ফাঁকি দিলেও আল্লাহর চোখ ফাঁকি দেয়া সম্ভব নয়।
”গতকাল সোমবার ২ মার্চ(২০২৬) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল কর্তৃক আয়েজিত রমাদানের তার্পয শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তাকওয়া ও রমাদানের তাৎপর্য তুলে ধরে যথাযথভাবে হিসাব করে যাকাত পরিশোধের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি ও চাকসুর সাবেক ভিপি এডভোকেট মো. জসীম উদ্দীন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ব্যারিষ্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি, বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের সুপ্রিম কোর্ট বার ইউনিট সভাপতি এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন মিন্টু, ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সভাপতি এডভোকেট ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক এডভোকেট আবুল বাতেন, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মো. আব্দুর রাজ্জাক, এডভোকেট মো. সাইফুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের আইনজীবী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন,সাবেক নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট আজমত হোসেন ও এডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, এডভোকেট আবেদ রাজা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘‘নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপির পরও জামায়াতে ইসলামী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ফলাফল মেনে সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে’’। কারণ জামায়াতে ইসলামী সংঘাত-সহিংসতা চায় না। জামায়াতে ইসলামী দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য হচ্ছে সরকার দল ও বিরোধীদল সমন্বিতভাবে একেঅপরকে সহযোগিতার মাধ্যমে এক নতুন ব্যবস্থার রাজনীতি গড়ে তুলে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা।
কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। জামায়াতের নেতাকর্মীদের এমনকি ভোটারদেরও বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ চালিয়ে আসছে। এতো সহিংসতার পরও জামায়াতে ইসলামী পাল্টা জবাব না দিয়ে সংযত থেকে সরকারকে বারবার সহিংসতা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। সরকার নিজ দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হতে পারে। তাই সরকারকে এখনোই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, “বাংলাদেশ এক অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে বিচার আঙ্গনে এমন বিপর্যয় পৃথিবীর আর কোথায় হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিচার বিভাগের একটা সম্মান ও মর্যাদা ছিল।সেই সময়ে কারো মুখের দিকে তাকিয়ে বিচার করা হতো না। তখন সরকারের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক অনেক রায় আমরা দেখতে পেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা আজকে বলতে বাধ্য হচ্ছি সেই বিচার ব্যবস্থা আজ আর নেই।
আমাদের একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তিনি নিজের লেখা বইয়ে উল্লেখ করেছেন এক বিশেষ জায়গা থেকে রায়ের নির্দেশ আসতো। এই ধরনের বিচার ব্যবস্থা থেকে আমরা বেরিয়ে আসার একটা পথ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যদি একটি সভ্য জাতিতে রূপান্তরিত হতে চাই তবে অবশ্যই আমাদের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। যেই দেশগুলো উন্নত এবং সভ্য সেই দেশ গুলোতে আইনের শাসন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ব্যতিত কোনো রাষ্ট্রকে সভ্য এবং উন্নত রাষ্ট্র বলা যায় না।”সভা শেষে দোয়া ও মোনাজাতের পর বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
কিউএনবি/আয়শা/০৩ মার্চ ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:২২