আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারত ও রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে আমেরিকার খবরদারিতে এবার সরাসরি সংঘাতের সুর চড়ালেন অভিনেতা তথা রাজনীতিবিদ কমল হাসান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখে অত্যন্ত কড়া ভাষায় তাকে ‘নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার’ পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ভারতের মতো একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রকে ওয়াশিংটন ‘নির্দেশ’ দেওয়ার চেষ্টা করছে— এই বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এই প্রবীণ অভিনেতা।
সম্প্রতি ভারতের ওপর রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে একটি ৩০ দিনের ‘সাময়িক ছাড়’ ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মক্কাল নিধি মাইয়াম-এর প্রতিষ্ঠাতা। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা ওই খোলা চিঠিতে কমল হাসান সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সম্বোধন করে লিখেছেন যে, ভারত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। কোনো দূর বিদেশের ভূখণ্ড থেকে আসা হুকুম বা নির্দেশ পালন করার দিন অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান থাকলেই কেবল বিশ্বশান্তি সম্ভব, অন্যথায় নয়।
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার উচিত ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলিয়ে নিজেদের কাজে মনোনিবেশ করা।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে উত্তাল গোটা পশ্চিম এশিয়া। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের তেলের জোগানে টান পড়েছে।
এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেন যে, ভারতীয় শোধনাগারগুলোকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য সাময়িক ৩০ দিনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আমেরিকার আশা, ভারত ধীরে ধীরে রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমেরিকার কাছ থেকে তেল কেনা বাড়াবে। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ভারত তাদের তেল কেনা কমিয়ে দিচ্ছে— এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ভারত ও রাশিয়ার এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক দুই দেশের জন্যই লাভজনক এবং এটি আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে।
এমন এক সংবেদনশীল সময়ে ট্রাম্পের ওপর কমল হাসানের এই আক্রমণ দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন গর্বিত ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ট্রাম্পের ‘দাদাগিরি’ মেনে না নেওয়ার যে বার্তা কমল হাসান দিয়েছেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
কিউএনবি/অনিমা/০৮ মার্চ ২০২৬,/সকাল ৬:৩২