বিনোদন ডেস্ক : বলিউডের স্পাই থ্রিলার সিনেমা ‘ধুরন্ধর’-এর জয়গান এখন সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারেও। আদিত্য ধর পরিচালিত এই সিনেমাটি যে কেবল ভারতের বক্স অফিস কাঁপিয়েছে তা নয়, বরং বিশ্বনেতাদেরও নজর কেড়েছে।
বর্তমানে ভারত সফরে থাকা ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব প্রকাশ করেছেন যে, ভারতে আসার আগেই তিনি এই রোমাঞ্চকর সিনেমাটি দেখে ফেলেছেন। ৪ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে অবস্থানকালে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই মুগ্ধতার কথা জানান।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট স্টাব বলেন, মজার বিষয় হলো ভারতে আসার আগে আমার ছেলে আমাকে ‘ধুরন্ধর’ দেখার পরামর্শ দিয়েছিল। আমি সিনেমাটি দেখেছি এবং এর কাহিনি বিন্যাসে মুগ্ধ হয়েছি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এই আখ্যানে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং আগামী ১৯ মার্চ মুক্তি পেতে যাওয়া এর সিক্যুয়েলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
ফিনিশ প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্বজুড়ে ছবিটির দ্বিতীয় কিস্তির ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে। ট্রেলারে দেখা গেছে রণবীর সিং ‘জাসকিরাত সিং রাঙ্গি’ হিসেবে লিয়ারি গ্যাংয়ের ভেতর থেকে কাজ করে একটি বড় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ধ্বংস করার মিশনে নেমেছেন। ট্রেলারের শেষে তার কণ্ঠে ‘এখন ভারতই পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে’ সংলাপটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম পর্বটি গত বছরের ৫ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এবং এটি ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার তকমা পায়। সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল, আর মাধবন এবং অক্ষয় খন্নার মতো শক্তিশালী অভিনেতাদের উপস্থিতিতে সাজানো এই সিনেমাটি বর্তমানে নেটফ্লিক্সে দেখা যাচ্ছে। প্রথম পর্বের সমাপ্তিতে দেখা গিয়েছিল যে জাসকিরাত আসলে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভারতের হয়ে ছদ্মবেশে কাজ করছেন।
সিনেমা আলোচনার পাশাপাশি ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট তার এই সফরে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ এবং জাতিসংঘের নীতি অনুযায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তার এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা, সেমিকন্ডাক্টর এবং খনিজসম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিও দুই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের এই অংশীদারত্বকে বিশ্বস্ত প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
কিউএনবি/অনিমা/০৮ মার্চ ২০২৬,/সকাল ৬:৩৫