বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ, ৩ দিন পর মুক্তিপণে ফেরত আটকে থাকা অর্থের ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ওড়ালো ইরান রোনালদোকে নিয়েই শুরুর একাদশ ঘোষণা পর্তুগালের বিয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিল এক মুহূর্তের দুর্ঘটনা! যুক্তরাজ্যে রেকর্ড দাবদাহ: গলে যেতে পারে রাস্তা, গাড়িচালকদের যাত্রা স্থগিতের পরামর্শ ‘আদালতে স্বামীর খোঁজে স্ত্রী’, মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে ব্যক্তিগত আক্রমণ উদয়নিধির দখলদার সেনার ওপর হামলাকেও নিজ ভূখণ্ডে আক্রমণ হিসেবে দেখাচ্ছে ইসরায়েল: বিশ্লেষক বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলো বখাটের হেনস্থা, বিয়ের একদিন আগে মা-বাবার সাথে তরুণীর আত্মহত্যা! রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ইনার হুইল প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশকে সিরিজ হারের লজ্জা দিলো আরব-আমিরাত

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫
  • ৬৮ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : শঙ্কাটাই সত্যি হলো। শেষ পর্যন্ত সিরিজটাও হেরে বসলো বাংলাদেশ। এই জয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ল সংযুক্ত আরব আমিরাত। সঙ্গে টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথমবার টি-২০ সিরিজ জিতে ইতিহাস লিখল। অন্যদিকে পূর্ণকালীন অধিনায়ক হয়ে নিজের প্রথম সিরিজেই বিব্রতকর হার দেখলেন লিটন দাস।

আরব-আমিরাতের বিপক্ষে মাঝপথেই ম্যাচের সংখ্যা বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ, সেই দলের কাছেই ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের লজ্জায় ডুবল সফরকারীরা।

বুধবার শারজায় তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৭ উইকেট ও ৫ বল হাতে রেখে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয় আমিরাত। প্রথম ম্যাচ হারের পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা দুই ম্যাচ জিতল, সঙ্গে পকেটে পুরল সিরিজটাও।

লক্ষ্য ছিল ১৬৩ রানের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম। মারকুটে আরব আমিরাত অধিনায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম বাঁহাতি পেসারের সুইংয়ে ক্যাচ দেন প্রথম স্লিপে। তানজিদ তামিমের ক্যাচ হয়ে ফেরার আগে ৬ বলে ওয়াসিম করেন ৯।

তবে ১৪ রানে প্রথম উইকেট হারালেও পাওয়ার প্লেতে দারুণ ব্যাটিং করে আরব আমিরাত। ৬ ওভারে তোলে ১ উইকেটে ৫০ রান। অবশেষে অষ্টম ওভারে বল হাতে নিয়েই ব্রেক থ্রু দেন রিশাদ হোসেন। ২৩ বলে ২৯ করে বোল্ড হন মোহাম্মদ জুহাইব।

এরপর জুটি গড়ে তোলার চেষ্টা করেন আলিশান শারাফু আর রাহুল চোপড়া। তাদের ২০ বলে ২১ রানের জুটি ভাঙেন তানজিম সাকিব। স্লোয়ার বাউন্সারে রাহুলকে (১৩ বলে ১৩) শামীম পাটোয়ারীর ক্যাচ বানান তিনি।

তবে এরপর দলকে এগিয়ে নিয়ে যান আলিশান। রিশাদকে ছক্কা মেরে ৩৮ বলে ফিফটি পূরণ করেন তিনি। এরপর আসিফ খানকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচ বের করে নিয়ে আসেন আলিশান। চতুর্থ উইকেটে তারা ৫২ বলে ৯১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। আলিশান ৪৭ বলে ৬৮ আর আসিফ ২৬ বলে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আরব আমিরাত। ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপদে পড়ে টাইগাররা। ৭১ রানে ৭ উইকেট, ৮৪ রানে নেই ৮ উইকেট। শঙ্কা জেগেছিল একশর আগে অলআউট হওয়ার। সেখান থেকে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করে বাংলাদেশ।

হাসান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে ৪৪ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন জাকের আলি অনিক। ৩৪ বলে ৪১ রানের মোটামুটি ঝড়ো ইনিংস খেলে আউট হন জাকের। শেষ ওভারে আরব আমিরাত অধিনায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে ঝড় তোলেন হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। দু’জন মিলে ২৬ রান নেন এই ওভার থেকে।

যার ফলে বাংলাদেশের স্কোর শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে সম্মানজনক ১৬২ রানে গিয়ে শেষ হয়। হাসান মাহমুদ ১৫ বলে ২৬ এবং ৭ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন শরিফুল ইসলাম।

শুরুটা করেছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলটি ছিল তার নিজের মোকাবেলা করা প্রথম বল। ধ্রুব পারাশারের বলে আলিশান শরাফুর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান পারভেজ। গোল্ডেন ডাক মারেন তিনি।

এরপর তানজিদ তামিম এবং লিটন দাস মিলে চেষ্টা করেন শুরুর বিপর্যয় কাটাতে। কিন্তু ১০ বলে ১৪ রান করে লিটন দাস হায়দার আলির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে গেলে বিপর্যয়ের শুরু। তানজিদ হাসান তামিম একপাশে থেকে কিছুক্ষণ একা একা লড়াই করার চেষ্টা করলেন। ১৮ বলে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন তিনি।

তাওহিদ হৃদয় পুরো সিরিজেই ব্যর্থ। এই ম্যাচে তো কোনো রানই করতে পারলেন না। ২ বলে শূন্য রানে বিদায় নিলেন। ৯ বল খেলে শেখ মেহেদী হাসান আউট হন ২ রান করে। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে সুযোগ দেয়া হয়নি। এবার সুযোগ পেলেন এবং ৫ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে আবারও ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন।

শামীম হোসেন পাটোয়ারী নিজের নামের প্রতি মোটেও সুবিচার করতে পারেননি। ১২ বলে ৯ রান করে আউট হয়ে যান তিনি। রিশাদ হোসেন ব্যাট হাতে যতটা সম্ভাবনাময়ী ছিলেন, তার ছিটেফোঁটাও দেখাতে পারলেন না। ২ বল খেলে কোনো রান না করেই বিদায় নিলেন।

তানজিব সাকিব খেললেন ১২ বল। ৬ রান করে ছক্কা মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন তিনি। জাকের আলি অনিক শেষ দিকে এসে কিছুটা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

শেষ পর্যন্ত তিনি করেন ৩৪ বলে ৪১ রান। তারপর শরিফুল আর হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত ব্যাটিং। আরব আমিরাতের স্পিনার হায়দার আলি মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। সগির খান ও মাতিউল্লাহ খান পান ২টি করে উইকেট।

কিউএনবি/অনিমা/২২ মে ২০২৫, /সকাল ৭:০৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit