দীঘিনালার দুর্গম পাহাড়ে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সেনাবাহিনীর গভীর নলকূপ স্থাপন।
জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি ।
Update Time :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
৩১
Time View
জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের ধনপাতা ছড়া এলাকার করুনা চাঁন বাঙ্গালো কার্বারী পাড়ার দুর্গম পাহাড়ি জনপদে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে থাকা প্রত্যন্ত বাবুছড়া এলাকার দুর্গম পাহাড়ের বাসিন্দাদের কষ্ট লাঘবে দীঘিনালা জোন (৪-ইবি)। পক্ষ থেকে একটি গভীর নলকূপ ও সাবমারসিবল মোটর স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সকালে দীঘিনালা জোনের সার্বিক সহায়তায় স্থাপিত এই গভীর নলকূপের উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ১০৫টি পরিবারের প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন মানুষ বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীঘিনালার বাবুছড়া ইউনিয়নের ধনপাতা ছড়া এলাকার করুনা চাঁন বাঙ্গালো কার্বারী পাড়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ বছর ধরে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছিল।
পাহাড়ি ঝিরি বা কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও নারীদের প্রতিদিন মাইলের পর মাইল দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হতো। শুষ্ক মৌসুমে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করত। বছরের পর বছর চলে আসা এই জনদুর্ভোগের বিষয়টি নজরে আসার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়ন ও দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে দ্রুত এই মানবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দীঘিনালা ৪ইবি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল আল-আমিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা, স্থানীয় হেডম্যান, কার্বারী এবং উপকারভোগীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পানি পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “আগে এক কলসি পানির জন্য আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাহাড়ি পথ হাঁটতে হতো, তাও পরিষ্কার পানি মিলত না। এখন ঘরের কাছেই বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছি। সেনাবাহিনী আমাদের এই বড় কষ্টটা দূর করে দিল।
দীঘিনালা ৪ইবি জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল আল-আমিন জানান, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকটের বিষয়টি জানতে পেরে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই গভীর নলকূপটি স্থাপন করা হয়েছে। পাহাড়ি জনপদের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে সেনাবাহিনীর এমন জনকল্যাণমূলক ও মানবিক সহায়তা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে এ উদ্যোগের জন্য দীঘিনালা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।