সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আইটি, এআই, সার ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে মারুবেনি কর্পোরেশনকে আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জার্মান পর্যটকের মালামাল চুরি করা যুবককে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা উচ্চ আয়ের পাশাপাশি যে ১০ পেশায় রয়েছে কাজের আনন্দ খাবারের আগে অলিভ অয়েল খেলে রক্তে শর্করা বাড়ে ধীরে, বলছে গবেষণা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের বৈঠক ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার ক্যানসার, যে ৭ লক্ষণে হবেন সতর্ক নিজের মত প্রকাশ করলে কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে ‘অলক্ষ্মী’: ইশা সাহা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মিলল নানা পাটেকারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দুর্গাপূজায় টানা তিন দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক জমাদিউল আউয়ালের চাঁদ দেখা যায়নি

ইফতারে রাখুন ফলমূল

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০২৫
  • ১৭২ Time View

লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : মানবদেহ থেকে বর্জ্য নিষ্কাশনে মূলত দুটি প্রক্রিয়াকে সাধারণভাবে সবাই জানেন, মূত্র ত্যাগ ও মল ত্যাগ। প্রস্রাব, প্রস্রাবের থলিতে প্রতি মুহূর্তে জমা হতে থাকে, থলে ভর্তি হলে প্রস্রাবের বেগ হয় এবং মানুষ থলে খালি করে থাকে প্রস্রাব করার মাধ্যমে। অনুরূপভাবে মলেরও একটি থলে আছে, তবে থলেটি মল ত্যাগের সুবিধার্থে নলাকার (টিউব) থাকে, ডাক্তারি ভাষায় (বৃহদন্ত্র) মলাধার বলা হয়। মলাধার ভর্তি হলে মল ত্যাগের মাধ্যমে সময়ে সময়ে তা খালি করা হয়। আমরা যেসব বস্তুকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি তার একটা অংশ হজমের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে আর বাদবাকি অংশ মলে পরিণত হয়। খাদ্যতন্ত্র বা ফাইবার পেটে হজম হয় না এবং মল তৈরির প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচ্য। সুস্থ মানুষের প্রতিদিন এমন পরিমাণ মল তৈরি হওয়া উচিত, যাতে (মলাধার) মলের থলে অন্তত একবার ভর্তি হয়, তাতে দিনে একবার মলত্যাগ করার প্রয়োজন হবে। নিয়মিত মল ত্যাগের অভ্যাস থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মল অধিক সময় ধরে মলাধারে জমা থাকলে অর্থাৎ নিয়মিত মলত্যাগ না করতে পারলে, মল থেকে পানি শোষিত হওয়ার ফলে পানি বের হয়ে যাওয়ায় মল দিনে দিনে শক্ত আকার ধারণ করে, ফলে ব্যক্তি কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য অসুুস্থ হতে পারে। এর সব কিছুর একমাত্র প্রাকৃতিক সমাধান অধিক মলবর্ধক খাদ্য। মূলত শাকসবজি, ফলমূল ও দুধ-দধি ও আস্ত শস্যদানার খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করা। এই খাদ্যবস্তুগুলো কিন্তু স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের প্রধান উপাদানও বটে। এ ছাড়া তিসি খুব ভালো কার্যকর এসব ক্ষেত্রে। তিসিতে প্রচুর দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী। তিসির সাধারণত বেশি তীব্র গন্ধ বা স্বাদ নেই বলে তা সবার কাছেই বেশি গ্রহণযোগ্য হয়। তিসিকে হালকা ভেজে ব্যবহার করতে হয়, তিসি ব্যবহার করে আচার কাসুন্দি তৈরি করা যেতে পারে, ভর্তা করেও খাওয়া যেতে পারে। আবার বেশ কিছু ফলে অধিক পরিমাণে ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। Appricot-কাঠ বাদাম, Figs-আনজির, পেঁপে, আনারস, পেয়ারা, Peaches, Prunes ইত্যাদি। শাকসবজি ও ফাইবার বা খাদ্যতন্ত্রের প্রাকৃতিক উৎস। অন্যদিকে শস্যদানা (সবশুদ্ধ) যেমন-লাল চাল, লাল আটা ও আস্ত ডাল খেলে প্রচুর খাদ্যতন্ত্র/ডায়েটারি ফাইবার পাওয়া যেতে পারে। ইসবগুলের ভুসি, তোকমা দানা, তিসির খৈল, তিসি বাটা, শর্ষে বাটা, তিল ভাজা (ছালসহ) কাসুন্দি। ফাইবারসমৃদ্ধ এসব খাবার প্রথমে শুরু করার সময় অল্প অল্প করে শুরু করতে হবে। বিশেষ করে যারা পূর্বে ফাইবার জাতীয় খাদ্য বেশি গ্রহণে অভ্যস্ত নন। তাদের হলে পেটে গ্যাস উৎপন্ন হয়ে অস্বস্তি বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে ১-২ সপ্তাহ সময়ের মধ্যে পেটে গ্যাস উৎপন্ন হওয়া কমে যায়। * প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট স্বাভাবিক গতিতে হাঁটা, সাঁতরানো, বাগানে কাজ করা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

আরও কিছু পরামর্শ : দুধ এবং দই মলবর্ধক হওয়ায় অবশ্যই খেতে হবে। * মিষ্টি আলু একটু বেশি পরিমাণে খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। * কচু, কচুর মুথি, লতা, ডাঁটা ও পাতা পর্যাপ্ত পরিমাণে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। * প্রতিদিন ৫ মিনিট করে পেটের জন্য যোগব্যায়াম করুন। শ্বাস নিতে নিতে পেট ফুলান এবং শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পেট ভিতরে ঢুকান। আপনি টয়লেটে বসেও তা করতে পারেন। * ঘৃতকুমারীর শাঁস পানিতে মিশিয়ে খালি পেটে এক থেকে দুই গ্লাস পরিমাণ খাওয়া যেতে পারে। * প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করুন। * প্রতিদিন এক গ্লাস বেলের জুস খাওয়া বেশ উপকারী। * পনির, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, মিষ্টি, চিনি, গুড়, লবণ জাতীয় খাবার, গরু-খাসির মাংস, সব ধরনের ফাস্টফুড (জাংক ফুড), সফট ড্রিংক, বিচিকলা, কফি ইত্যাদি খাবার এড়িয়ে চলুন। * অন্য কোনো সমস্যা না থাকলে কমোড টয়লেট ব্যবহার না করে প্যান টয়লেট ব্যবহার করা উত্তম। কোনোরূপ শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করবেন না। টয়লেটে যাওয়ার পর টয়লেট হওয়ার জন্য ৫ মিনিটের বেশি সময় অপেক্ষা করবেন না। * কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মেডিসিন/ডুস ব্যবহার না করাই উত্তম।

ইফতারে রাখুন ফলমূল : যেহেতু রমজান মাস চলছে তাই রোজাদারদের এ সময়ে খাদ্যগ্রহণে কিছুটা সচেতন হতে হবে। অনেক রোজাদার রমজান মাসে তাদের কায়িক শ্রমের পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে দিয়ে কিছুটা অলস জীবনধারা পালন করতে থাকেন, যা আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বৈকি। রমজানে বছরের অন্যান্য সময়ের মতো কর্মচাঞ্চল্যতা বজায় রাখতে হবে। ইফতারের সময় বেশি করে (পর্যাপ্ত) পানি গ্রহণ স্বাস্থ্যসম্মত, কারণ সারা দিন রোজা রাখার ফলে শরীরে পানির অনেক ঘাটতি দেখা দেয়। এ ছাড়া ইফতারে থাকতে হবে শসা, খিরা, পেয়ারা, তরমুজ, টমেটো, নাশপাতির মতো ফল। এ ছাড়া অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাদ্যবস্তু, মুড়ি, জিলাপি, ফিরনি ইত্যাদির পরিমাণ একটু কম করে গ্রহণ করতে হবে।

লেখক: চিফ কনসালট্যান্ট, শমশের হার্ট কেয়ার, শ্যামলী, ঢাকা

কিউএনবি/অনিমা/১৯ মার্চ ২০২৫,/সকাল ১১:৩৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit