শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মির্জা ফখরুল : বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
  • ৬০ Time View

ডেস্কনিউজঃ বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দয়া করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভাজনের রাস্তা তৈরি করবেন না। কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে সমস্ত বক্তব্য প্রচারিত হচ্ছে, তা দুই দেশের সুসম্পর্কের জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়।’

আজ শনিবার বিকেলে মাওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘ভাসানী জনশক্তি পার্টি’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ভারত আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী। আমরা প্রতিবেশীর সাথে কখনোই ঝগড়া-বিবাদ করে চলার পক্ষপাতী নই, আমরা সুসম্পর্ক চাই। কিন্তু যখন আমাদের সীমান্তে আমাদের নিরপরাধ নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করা হয়, তখন তা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।’

তিনি সীমান্ত হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে তা বন্ধ করার জন্য জোর আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যদি সত্যিই সুসম্পর্ক চায়, তবে তাদের বক্তব্য এবং আচরণের মধ্য দিয়েই তা প্রমাণ করতে হবে।

আসন্ন ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে এবং নদীর ন্যায্য হিস্যা আদায়ে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি ও জনগণকে এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটি কোনো একক দলের জন্য বা সরকারের জন্য নয়, এটি সমগ্র জাতির অস্তিত্বের লড়াই।

মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কিভাবে একটি জাতিকে সুসংগঠিত করে রুখে দাঁড়াতে হয়, ফারাক্কা লংমার্চ তারই প্রতীক।

ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার অত্যন্ত সঠিক সময়ে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ব্যারেজ নির্মিত হলে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা যাবে, অন্যদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততাসহ পরিবেশগত বড় সঙ্কটগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল খনন কর্মসূচিকে আবার নতুন আঙ্গিকে শুরু করা হয়েছে, যাতে বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা যায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিএনপিকে জয়যুক্ত করে প্রমাণ করেছে যে তারা ধর্মান্ধতা, উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশের মূল সত্ত্বাকে কোনো বিষাক্ত উপাদান দিয়ে বিনষ্ট করতে দেয়া হবে না। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি।

ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে পার্টির মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

আলোচনা অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. জসীম উদ্দিন আহমদ, সাবেক মন্ত্রী নূর মোহাম্মদ খান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

সূত্র : বাসস

কিউএনবি/বিপুল/১৬.০৫.২০২৬/রাত ৮.৩৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit