শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
খুঁজছিলেন এক গ্রহ, হঠাৎ বৃহস্পতির চেয়ে দ্বিগুণ বড় গ্রহের খোঁজ পেল না বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নং ইউনিটের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ  চট্টগ্রামে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা: অর্থমন্ত্রী ভারতের প্রতি বাংলাদেশিদের ইতিবাচক মনোভাব কমেছে মোদির ‘কোলাকুলি’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর মশকরা ইনফান্তিনোর পাশ থেকে সরে দাঁড়াল নিউজিল্যান্ডও, চায় স্বাধীন তদন্ত ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে তরুণদের সাইকেল র‍্যালি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আজই আমার শেষ দিন: নাছির মানুষ নামাজে এসে বলে গ্যাস নাই, গ্যাস দেন: জামায়াত আমির ৫ মাসে লোডশেডিংয়ের ইতিহাস ভেঙেছে সরকার, দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ নেই: নাহিদ

রক্ষাকর্তাকে শিশু নির্যাতনকারী বানিয়ে অপপ্রচার

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৬১ Time View

ডেস্ক নিউজ : সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম এবং ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে, যেখানে একজন নারীর কোল থেকে একটি শিশুকে পুলিশের আগুনের তাপের কাছে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য প্রদর্শিত হয়েছে। ওই ভিডিওটি প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ভিডিওটিতে হিন্দু শিশুকে পুলিশ কর্তৃক অত্যাচারের দৃশ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটিতে কোনো হিন্দু শিশুকে পুলিশ কর্তৃক অত্যাচার করা হয়নি বরং ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের মধ্যকার সংঘর্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছোঁড়া টিয়ারগ্যাসের ঝাঁঝে একটি শিশু জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে আগুনের তাপে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও আশেপাশে উপস্থিত ব্যক্তির সুস্থ করার চেষ্টার দৃশ্যকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির একাধিক কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে আশরাফুল আমিন নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে চলতি বছরের গত ২০ নভেম্বর তারিখে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে।

ভিডিওটি সম্পর্কে উক্ত পোস্টটিতে বলা হয়, “ঢাকা কলেজ আর সিটি কলেজ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। টিয়ারগ্যাসের ধোঁয়ায় বয়স্ক মানুষ টিকতে পারেনা সেখানে বাচ্চাটির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়”।

এরই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওতে প্রদর্শিত পুলিশ সদস্যের নাম শেফাত চৌধুরী। পরবর্তীতে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি খুঁজে বের করে রিউমর স্ক্যানার টিম। শেফাত চৌধুরীর ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণ করলে চলতি বছরের গত ২২ নভেম্বরে উক্ত ঘটনাটির চারটি ছবির সংযুক্তিসহ ঐ দিন ঘটে যাওয়া ঘটনাটির বিষয়ে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটিতে একটি বিস্তারিত পোস্ট পাওয়া যায়।

পোস্টটিতে তিনি বলেন, ঘটনাটি চলতি বছরের গত ২০ নভেম্বরের। ঢাকা কলেজ এবং সিটি কলেজের মধ্যকার সংঘর্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিল পুলিশ ও সেনাবাহিনী। এসময় সাইন্স ল্যাবের চার লেনের ব্যস্ত রাস্তাটিতে তীব্র যানজট হতে শুরু করে। বৃষ্টির মতো ইট পাথর নিক্ষেপ করা হয় এবং এতে করে সাধারন জনগণ, পুলিশ সদস্য এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য টিয়ার-শেল নিক্ষেপ করা হয়। এমতাবস্থায় সাধারণ মানুষ গ্যাসের তীব্র ঝাঁঝের কারণে চলে গেলেও দুই কলেজের কোনো শিক্ষার্থী চলে যায়নি। ছবিটিতে যে ছোট বাচ্চাটি ভিডিওটিতে প্রদর্শিত পুলিশ সদস্য শেফাতের কোলে, সেই ছোট বাচ্চাটি ও তার মা তৎক্ষনাৎ ঐ রাস্তাটি পারাপার হওয়ার সময় টিয়ার শেলের গ্যাসের কারণে মা এবং বাচ্চাটির শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং দুজনই কান্না কাটি করছিলেন। বাচ্চাটি অজ্ঞান (সেন্সলেস) হওয়ায় মা দৌড়ে আসছিলেন। পুলিশ সদস্যরা তখন গ্যাসের কারনে আগুন জ্বালিয়ে নিশ্বাস নিচ্ছিল। বাচ্চাটির মায়ের দৌড়ে আসা এবং কান্না দেখে শেফাত চৌধুরী চিৎকার করে নারীকে কাছে নিয়ে এসে বাচ্চাটি কোলে নেন এবং আগুনের কাছে নিয়ে যান। আগুনের পাশে ধরে রাখার কারনে মেয়েটির সেন্স যখন ফিরে আসছিল তখন আগুন কম থাকায় ওখানে থেকে রাস্তায় গিয়ে সবাই বসে পড়ে এবং সেখানে থাকা একজন তার পরণের টি-শার্ট খুলে সেটিতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তখন বাচ্চাটিকে আবার আগুনের পাশে কোলে ধরে রাখেন এবং নাকে নিশ্বাস নেওয়ান। বাচ্চাটি দ্বীর্ঘ ১০ মিনিট পর মোটামুটি সুস্থ হয়। পরবর্তীতে বাচ্চাটিকে তার মায়ের কোলে দেওয়া হয়।

অর্থাৎ, পুলিশ সদস্যের বক্তব্য অনুসারে প্রথমে প্রদর্শিত হওয়া নারী উক্ত শিশুটির মা। শিশুর মাকে হিজাব বা পর্দা করতে দেখা যায় যা থেকে বুঝা যায়, উক্ত নারী বা শিশু হিন্দু নন বরং মুসলিম ছিলেন।

তাছাড়া, পুলিশের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে উক্ত স্থান গুগল ম্যাপে অনুসন্ধান করলে নিউ এলিফ্যান্ট রোডের সাথে উক্ত স্থানের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করেও জানা যায়, গত ১৯ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সায়েন্স ল্যাব এলাকায় ঢাকা কলেজের ছাত্রদের একটি বাসে ওঠাকে কেন্দ্র করে সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে গত ২০ নভেম্বর সকালে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা গিয়ে সিটি কলেজে ভাঙচুর চালায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তারা সায়েন্স ল্যাবের দিকে এগোয়। তখন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে সায়েন্স ল্যাবের কাছাকাছি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে এবং সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

সুতরাং, হিন্দু শিশুকে পুলিশ কর্তৃক অত্যাচারের দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র:

Ashraful Amin – Facebook Post
Shefat Chowdhury – Facebook Post
Google Map – New Elephant Rd
Prothom Alo – সায়েন্স ল্যাবে ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ
Rumor Scanner’s analysis

কিউএনবি/অনিমা/৩১ ডিসেম্বর ২০২৪,/দুপুর ২:২৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit