সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

মিনেসোটায় প্রাণঘাতী গুলির পর ট্রাম্প-ওয়ালজ ফোনালাপে শান্তির ইঙ্গিত

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান নৈরাজ্য ও উত্তেজনার মধ্যেই অবশেষে শান্তিপ্রিয় সম্ভাবনার সূত্র দেখা দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিনেসোটা গর্ভনর টিম ওয়ালজের মধ্যে টানাপোড়েন বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ট্রাম্পের নির্দেশে অনিয়মিত অভিবাসী হিসেবে সন্দেহভাজনদের ধরতে প্রায় তিন হাজার কেন্দ্রীয় অভিবাসী কর্মকর্তা মিনেসোটা পাঠানো হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের পরই শহরে বিক্ষোভ দানা বেঁধে ওঠে, এবং দুই নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় সামাজিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়।

মিনিয়াপোলিসে প্রথম নিহত হলেন ৩৭ বছর বয়সী নার্স অ্যালেক্স প্রেট্টি, যাকে কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা অস্ত্রধারী বলে আত্মরক্ষার কথা উল্লেখ করলেও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, প্রেট্টির হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। ভিডিওতে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করার পরই শ্বাসরোধ ও গুলি চালানো হয়, যা সাধারণ নাগরিক ও স্থানীয় করলে বিস্ময় ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এরপরই ক্রমশ রাষ্ট্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে কথাবার্তা কড়াকড়ি ওঠে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও গর্ভনর ওয়ালজ একান্ত এক ফোনালাপে বসেন। ওই আলাপচারিতায় দুই নেতা তীব্র টানাপোড়েনের বদলে শান্তিপ্রিয় মনোভাব প্রকাশ করেন। ট্রাম্প ফোনালাপের পর জানিয়ে দেন, তিনি ওয়ালজের সঙ্গে “সমান তরঙ্গদৈর্ঘ্যে” আছেন এবং পরিস্থিতি আরো উত্তেজিত হওয়ার বদলে সমাধানের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ওয়ালজও তার সরকারি মুখপাত্রকে বলেন, আলাপে তারা “উৎপাদনশীল আলোচনা” করেছেন এবং ট্রাম্পের তরফ থেকে অভিবাসী কর্মকর্তাদের সংখ্যা কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত এসেছে।
এ আলোচনার পর সেন্টার ফর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও অভিবাসন ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা গ্রেগরি বোভিনোকে তার “কমান্ডার অ্যাট লার্জ” শিরোনাম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার সীমান্ত কর্মসূচিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রের দাবি, বোভিনো শীঘ্রই অবসর নেবেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এই বদলির কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম হোম্যান “সেখানকার পরিস্থিতি জানেন এবং অনেক মানুষের সঙ্গে ইতিমধ্যেই সম্পর্ক রয়েছে”, ফলে শান্তিপূর্ণ সমাধানে তিনি ভূমিকা রাখবেন।
মিনেসোটায় বিচার ব্যবস্থাকে সম্মান জানিয়ে ট্রাম্প আগেভাগে ডিএইচএস-কে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে রাজ্য নিজস্ব তদন্ত পরিচালনা করতে পারে, বিশেষত প্রেট্টির মৃত্যু নিয়ে। এই পদক্ষেপ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কিছুটা স্বস্তির সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে মিনেসোটায় কর্মরত কিছু ফেডারেল কর্মকর্তা মঙ্গলবার থেকে টুইন সিটিজ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির সমালোচনা আরও জোরদার হচ্ছে। রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে শীর্ষ কোনো এক গর্ভনর প্রার্থী ক্রিস মাডেল প্রকাশ্যে বলেন, তিনি আর এই নীতির সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন না এবং প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়াবেন। তার ভাষায়, “আমরা সাধারণ নাগরিকদের ওপর এমন প্রতিশোধমূলক নীতি লাগাতে পারি না।”
ঘটনাগুলোতে সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের নিরাপত্তা, বিচার ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যকার সমন্বয়ের প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প-ওয়ালজের আলোচনার পর যে শান্তিপ্রিয় ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা যদি বাস্তবে ফলপ্রসূ হয়, তাহলে মিনেসোটার পরিবেশ এবং দেশব্যাপী অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র আলোচনার মধ্যেও একটা সম্ভাব্য সমাধানের রাস্তাকে সূচিত করতে পারে।

 

কিউএনবি/আয়শা/২৭ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৯:২৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit