নেত্রকোণা প্রতিনিধি : নেত্রকোণা জেলার দশটি উপজেলার সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সহ নকলনবিস ও তল্লাশ কারকদের স্থায়ীভাবে বসার কার্যালয়ের দাবীতে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে সরকারকে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব দেওয়ার তারপরও স্থায়ীভাবে বসার কার্যালয় নেই। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি নেত্রকোণা জেলার দশটি উপজেলার সর্বস্তরের দলিল লেখক সহ তল্লাশ কারক, নকলনবিসদের নিজ নিজ সংগঠনের আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। জানা যায়, নেত্রকোণা সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে বসার জন্য নেত্রকোণার পুরাতন জজকোর্ট বিল্ডিং এর পাশে খালি জায়গায় নির্মাণাধীন দলিল লেখক সমিতি নেত্রকোণার নেতারা নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় পনের-বিশ লাখ টাকা খরচে টিনশেড ঘরটি গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ায় খোলা আকাশের নীচে বসে আছে।
এরই প্রেক্ষিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য দলিল লেখক সহ তল্লাশ কারক, নকলনবিস কর্মবিরতি করে আসছে। চলমান এই কর্মবিরতি মধ্যেই বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সড়কে মানববন্ধন করেছে। এসময় বক্তব্য দেন, দলিল লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, দলিল লেখক সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, দলিল লেখক শফিকুল ইসলাম বাতেন প্রমুখ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও নেত্রকোণা জেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু বলেন, আমি ১৯৭৩ সাল থেকে নেত্রকোণা সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক হিসেবে কর্মরত আছি।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমরা সরকারকে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করে থাকি কিন্তু অদ্যাবধি দলিল লেখকদের বা দলিল করতে আসা সুবিধাভোগীদের বসার কোনো ব্যবস্থা তো দূরের কথা জেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থায়ী কোনো কার্যালয় নেই। নেত্রকোণা জেলা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভাড়ায় পরিচালিত হয়ে আসছে। এমতবস্থায় আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতিক্রমে বর্তমান জেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের পাশে অস্থায়ী বসার জন্য নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় পনের বিশ লাখ টাকা খরচে করে একটি টিন শেড ঘর তৈরী করা অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) সকাল জেলা জজকোর্ট প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ঘরটি গুঁড়িয়ে দেয়। আমরা এযাবৎ ঝড় তুফান, কাদামাটি উপেক্ষা করে কাজ করে আসছি। এখন আর সম্ভব না।
তাই আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছি। তিনি আরও বলেন, জেলা শহরের মাঝখানে অথবা জেলার পুরাতন জজকোর্ট আদালতের জায়গায় স্থায়ীভাবে বসার ব্যবস্থা করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী রাখছি। সালাহ উদ্দীন খান রুবেল ১৬.০৫.২৪ ইং ছবির ক্যাপশন – কর্মবিরতি ও মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ দলিল লেখক কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও নেত্রকোণা জেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু।
কিউএনবি/আয়শা/১৬ মে ২০২৪,/রাক ৮:০৪