বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুরাদ হোসেন ভুইয়াকে সমর্থন দেয় আওয়ামী লীগ। শুক্রবার বিকেলে সভা করে এ সমর্থন দেওয়া হয়। এ অবস্থায় দলীয় প্রতীক না থাকলেও আওয়ামী লীগের সরব উপস্থিতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।এদিকে সভা শুরুর আগে ৭০ থেকে ৮০টি মোটর সাইকেল নিয়ে মহড়া দেন মুরাদ হোসেন। তিনি নিজ এলাকা ধরখারের ভাটামাথা থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ মোটর সাইকেল বহর নিয়ে যোগ দেন আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘পরিচিত সভায়’। এ সময় নিজের ভুল ত্রুটির জন্য জোড় হাত করে ক্ষমা চান।এদিকে সভাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী বিধিকে তোয়াক্কা করা হয়নি। কোনো ধরণের পূর্বানুমতি ছাড়া পৌর ভবনের তৃতীয় তলায় এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ব্যবহৃত ব্যানারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, ও পৌর মেয়রের (উপজেলা আ. লীগের সাধারন সম্পাদক) ছবি ব্যবহার করা হয়।
নির্বাচনী বিধিতে উল্লেখ আছে, ‘নির্বাচনী প্রচারণার কোনো প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী নিজ ছবি ও প্রতীক ব্যতীত অন্য কাহারো নাম, ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করিতে পারিবেন না। তবে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনীত হইলে সেই ক্ষেত্রে তিনি কেবল তাহার দলের বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি পোস্টার ও লিফলেটে ছাপাইতে পারিবেন।’ বিধিতে এও বলা আছে যে, কোন প্রার্থী বা তাহার পক্ষে কোন রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কোনো বাস, ট্রাক, মোটর সাইকেল, নৌযান, ট্রেন কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহন সহকারে মিছিল বা মশাল মিছিল বা অন্য কোন প্রকারের মিছিল বাহির করিতে পারিবে না কিংবা কোনরূপ শোডাউন করিতে পারিবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে তৃণমূলের সঙ্গে মতবিনিমিয় ও মুরাদ হোসেনের পরিচিতি সভার ব্যানারে শুক্রবার বিকেলে পৌরসভা কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগি সংগঠন। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজলের সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভুইয়া , আওয়ামী লীগের সাবেক আহবায়ক জয়নাল আবেদীন, পাঁচ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
সভার শুরুতে তাকজিল খলিফা ঘোষণা দেন যে, মুরাদ হোসেনকে সমর্থন দেওয়ার জন্যই এ সভা। দলের সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে মুরাদ হোসেনকে আনারস প্রতীকে জয়যুক্ত করতে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি তিনি আহবান জানান এবং জয়ের বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। এর মধ্যে আনারস প্রতীকের মুরাদ হোসেন ভুইয়া উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ বোরহান উদ্দিন আহমেদ দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে এবং মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক মো. মনির হোসেন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
এবারের ভোটে ওই তিনজনের মধ্য তীব্র প্রতিদ্বন্ধীতা আশা করা হচ্ছে। তবে ভাইস চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় মুরাদ হোসেনের জন বিচ্ছিন্নতা তাকে অনেকটা পিছিয়ে রাখবে। উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন আয়োজিত বিভিন্ন আয়োজনে যোগ দিতেননা বলেও তার সমালোচনা আছে। এসব বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদেরকে জানান, দলীয় সভা হিসেবে তাঁরা ব্যানারে সবার ছবি ব্যবহার করতেই পারেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সভা করতে অনুমতির বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
কিউএনবি/অনিমা/০৩ মে ২০২৪,/রাত ৯:৩৬