শান্তা ইসলাম নেত্রকোনা প্রতিনিধি : দীর্ঘ ১৯ বছর পর আগামী ২১ অক্টোবর নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে খ্যাত উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীর মাঝে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে উপজেলা সদরে বারহাট্টা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অথিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিপিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাক। অণ্যদের মাঝে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলামসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ওই সম্মেলনে আজিজুর রহমানকে সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুল ওয়াহেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ এই সময়ে ওই কমিটির ১৭জন সদস্য মারা গেছেন, একজন আমেরিকা প্রবাসী হয়েছেন ও দুইজন দল ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিনেও সম্মেলন না হওয়ায় দলে ও দলের বাইরে চলছিল নানা জল্পনা কল্পনা। গত ২০০৩ সালে ত্রি-বার্ষিক সম্মলন শেষে কমিটি গঠনের পর দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর চলে ওই কমিটি দিয়ে। আগামী ২১ অক্টোবর শনিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উপঝেরা সদরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রায় ডজনখানেক নেতাকর্মী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করে চলেছেন।
সভাপতি পদে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আজিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, বারহাট্টা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুল কবীর খোকন, আওয়ামী লীগ নেতা, বারহাট্টা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বারহাট্টা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাঈনুল হক কাসেম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জালাল উদ্দিন তালুকদার। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হয়েছেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা দ্বীপক কুমার সাহা সেন্টু, বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আসমত আলী মোল্লা, উপজেলার চিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আসমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চন্দু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল ওয়াহেদের ছেলে জেলা যুবলীগ নেতা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বারহাট্টা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মোখলেছুর রহমান। দলীয় পদ পাওয়ার আশায় তারা মরিয়া হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন লাভের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতাদের আশির্বাদ পাওয়ার লক্ষ্যে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন দিনরাত।
বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আসমত আলী মোল্লা বলেন, আমার পরিবার আওয়ামী পরিবার। বাবা মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক ছিলেন। আমি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতি করে আসছি। এলাকার সাধারণ মানুষ দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আমার ভাল সম্পর্ক রয়েছে। সব জায়গা থেকে ভাল সরা পাচ্ছি। আমি দলের হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আশা করি দলীয় হাই কমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করবে। বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দ্বীপক কুমার সাহা সেন্টু বলেন, ১৯৭৩ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। এরপর থেকে যুবলীগ, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে যাচ্ছি। রাজনীতি করতে গিয়ে জেল কাটতে হয়েছে। জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি বহুবার। দলীয় কর্মী হয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করছি। আমি আশাবাদী দলের নেতাকর্মী ও হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করবে।
বারহাট্টা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা মাঈনুল হক কাসেম বলেন, আমি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। দলের হয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করছি। মানুষ আমার কাজের মূল্যায়ন করে চেয়ারম্যান বানিয়েছে। দলীয় নেতাকর্মূী ও হাই কমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করে দেশ ও এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুবিধার্থে আমাকে সভাপতি পদে মনোনীত করবে বলে শতভাগ আশাবাদী।
কিউএনবি/আয়শা/১৬ অক্টোবর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৩:৪৩