বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন

মুন্সীগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত দেড় শতাধিক

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ২১৬ Time View

ডেস্কনিউজঃ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় পুলিশের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে ৫-৬ জন গুলিবিদ্ধসহ বিএনপির দেড় শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহত হয়েছেন কয়েকজন পুলিশ ও সাংবাদিকও।

বুধবার (২১ সেপ্টম্বর) বিকেল ৩টার দিকে মুক্তারপুরের পুরনো ফেরিঘাট এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

বিএনপি নেতাদের দাবি, পুলিশের মুহুর্মুহু ছোড়া কাঁদানে গ্যাস, গুলি ও রাবার বুলেটে তাদের ৫০-৬০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

অপরদিকে পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে সার্কেল এসপি মিনহাজুল ইসলাম, সদর থানার ওসি তারিকুজ্জামান, এসআই সুকান্ত বাউল, দাজল দাস, মাইনুদ্দিন, আসিনুল, অজিদ, মোজাম্মেল হক, কং রায়হান, ইলিয়াস খানসহ অন্তত ১৫ জন পুলিশ আহত হয়েছে।

সংঘর্ষে সমকালের সাংবাদিক কাজী সাব্বির আহম্মেদ দীপু, কালবেলার সাংবাদিক মো: রুবেল, দিনকালের সাংবাদিক গোলজার হোসেন, রজত রেখার সাংবাদিক নাজির হোসেন আহত হয়েছেন।

জানা যায়, আজ বেলা ৩টার দিকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে মিছিল নিয়ে মুক্তারপুর এলাকায় আসে। এ সময় পুলিশ তাদের সেখানে অবস্থান করতে নিষেধ করে। মুক্তাপুর থেকে পরে নেতা-কর্মীরা ট্রাকে করে পুরনো ফেরিঘাট এলাকায় যান। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল আসতে শুরু করে। এ সময় মুন্সিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম বিএনপির একটি মিছিলের ব্যানার ধরে টান দেন। এতে নেতা-কর্মীরা পুলিশের সাথে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। প্রথম দিকে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিএনপির ইটপাটকেলের জবাবে গুলি ছোড়ে পুলিশ। তবে পরবর্তী ৩৫ মিনিটি পুলিশকে কোণঠাসা করে ফেলেন বিএনপির কর্মীরা। তিন দিক থেকে ছোড়া ইটপাটকেলে বেশ কয়েকজন আহত হন। কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে পিছু হটতে হটতে ধলেশ্বরী নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে বিএনপির এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। আহত অন্য নেতা-কর্মীরাও কেউ কেউ মুন্সিগঞ্জ জেলা হাসপাতালে না গিয়ে অন্যান্য হাসপাতালে যান। বিকেল ৪টার দিকে পুলিশের একাধিক দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জেলা বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘পুলিশের অনুমতি নিয়েই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছিলাম। বেলা তিনটার দিকে আমাদের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে মুক্তারপুর এর দিকে আসছিলেন। তখন পুলিশ আমাদের লোকজনকে মিছিল করতে নিষেধ করে। আমাদের লোকজন মিছিল করা বন্ধ করে দেয়। সে সময় পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিছিল থেকে ব্যানার টেনে ছিঁড়ে নিতে চায়। তখন বিএনপি নেতা-কর্মীদের সাথে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পুলিশ আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। পরে আমাদের লোকজন আত্মরক্ষার জন্য ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ আমাদের ওপর বৃষ্টির মতো রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস এবং গুলি ছুড়তে থাকে। এতে আমাদের অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশের গুলিতে আহত একজনের অবস্থা গুরুতর।’

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুজ্জামান বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আলোকে বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। সেই বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে তারা আমাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে। এ সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করি। লাঠিচার্জেও নিয়ন্ত্রণ না এলে এক পর্যায়ে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে ৩০-৩৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

কিউএনবি/বিপুল/২১.০২.২০২২/ রাত ১০.৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit