অমূল্য হাসি
—————-
আজকে একটা কাজে বের হয়ে অফিসের বাইরে অপেক্ষা করছি। সেই সময় এই মহিলার সাথে দাড়িয়ে দাড়িয়ে সুখ দুঃখের আলাপ করছিলাম। জিগ্যেস করলাম নাম কি? কোথায় থাকেন? আপন জন আর কে কে আছে? কিভাবে চলে তার? উওরে বললেন নাম আসিয়া বেগম। নাম বলতে মনে হলো একটু লজ্জা পেলেন। জিগ্যেস করলেন নাম জেনে কি হবে? তবুও এই অমূল্য হাসি দিয়ে বললেন নাম তো কেউ জিগায় না?
আমার নাম জাইনা আফনে কি করবেন? উওরে বললাম আপনার সাথে আমার আগেও অনেকবার দেখা হয়েছে কোন দিন জিগ্যেস করা হয়নি আপনার নাম। করোনার কারনে এই দিকে আসা হয়নি তবে আপনার কথা আমার মনে ছিল তাই আপনার নামটা জেনে নিলাম আর আপনার জীবন কাহিনী।
এই মানুষটা সারা দিন পথের ধারে বসে থাকে যে যা দেয় তাই দিয়েই চলে যায় জীবন। এক ছেলে আছে মায়ের খবর নেয় না। গলির এক বাড়িতে রাতে গিয়ে ঘুমান। ঘরে কোন দিন রান্না হয় না। কেউ দয়া করে দিলে সেই খাবার খান নয়তো টাকা দিয়ে হোটেল থেকে খেয়ে নেন। একা হোটেলে যেতে পারেন না। তার পাশে বসা দোকানীরা হোটেল থেকে খাবার কিনে এনে দিলে তবেই খেতে পারেন। এতো অনিশ্চয়তার জীবন তবুও মুখভরা হাসি। বললাম আপনার একটা ছবি তুলবো শুনে আবার ও হাসি। এই হাসিমুখ দেখে মনটা ভরে গেল।
ছবি তুলতে তুলতে মনে মনে বললাম আল্লাহ পাক যেনো তাকে ভালো রাখে সুস্থ রাখে। সকাল টা শুরু হলো এই হাসি দেখে ইনশাআল্লাহ সারাদিন অনেক ভালো যাবে। এই মানুষ গুলো থেকে আমি বেঁচে থাকার শক্তি পাই। জীবন শূন্য তবুও অমূল্য হাসি ঠোঁটে। আমরা যারা জীবনে অনেক কিছু পেয়েও মন খুলে হাসতে পারিনা তাদের অনেক কিছু শেখার আছে এই মানুষ গুলোর কাছে। জীবন সুন্দর। বেঁচে থাকা আনন্দের।
লেখিকাঃ ইফ্ফাত আরা একজন মনোবিজ্ঞানী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইকোলজিতে পড়াশোনা করেন। এখন নিজ প্রতিষ্ঠান Family And Community Empowerment Support থেকে মানসিক রোগীদের চিকিৎসা করেন। ব্যস্ততার মাঝেও সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করেন। আজকের এই পোস্টটি তাঁর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে সংগৃহিত।
কিউএনবি/ মাসুম/ ০২.০৯.২০২২/সকাল ১২.০৫