আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ওমানের মাস্কাটে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলেও, খাদের কিনারে থাকা কূটনীতিকে নতুন করে অক্সিজেন দিয়েছে।
মাস্কাটের এই আলোচনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল আলোচনার টেবিলে সামরিক উপস্থিতির ছায়া। মার্কিন প্রতিনিধি দলে প্রথমবারের মতো ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার পূর্ণ সামরিক পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার ঠিক কয়েকদিন আগেই আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন রণতরি ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর দিকে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে মার্কিন বাহিনী।
তেহরানের মতে, হুমকির মুখে এই কূটনীতি একটি ‘আল্টিমেটাম’ ছাড়া আর কিছু নয়। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বৈঠককে ‘খুব ভালো’ বলে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে ইরান চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে, কারণ এর অন্যথা হলে ফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
আলোচনার পেছনের সারিতে ওমানি মধ্যস্থতাকারীদের বাইরেও মিশর, তুরস্ক এবং কাতার একটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তাব করেছে বলে জানা গেছে।এই প্রস্তাব অনুযায়ী ইরানকে তিন বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
যদিও ইরান এই প্রস্তাবগুলো নাকচ করে দিয়েছে, তবে একটি বড় পরিবর্তন দেখা গেছে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সাথে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে। দীর্ঘদিনের পরোক্ষ আলোচনার প্রথা ভেঙে এই সরাসরি যোগাযোগ ইঙ্গিত দেয় যে দুই পক্ষই বার্গেনিংয়ের ক্ষেত্রে আরও কারিগরি ও গভীর স্তরে যেতে চাইছে।
তবে আস্থার সংকট এখনো এই আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা। ওমান বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি তেলের ব্যবসার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা তেহরানের কাছে আলোচনার আন্তরিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
আগামী কয়েক সপ্তাহ নির্ধারণ করবে এই মাস্কাট ডায়লগ কি আসলেই কোনো টেকসই চুক্তির ভিত্তি স্থাপন করল, নাকি এটি কেবল বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আগে কিছুটা সময় কেনা। আস্থার শূন্যতা এবং সামরিক চাপ থাকা সত্ত্বেও দুই পক্ষই যে পুনরায় বসতে রাজি হয়েছে, সেটিই আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনীতিতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কিউএনবি/আয়শা/০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৩৩