ডেস্ক নিউজ : পাঁচ বছর আগে স্বল্প পরিসরে শুরু করলেও জরজিস বর্তমানে ৫ থেকে ৬ ধরনের মাশরুম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করছেন। তিনি বলেন, ‘ইতিহাস থেকে জানা যায়, মাশরুমের চাষাবাদ শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব সময়ে। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু হলে এর প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির আবির্ভাব ঘটে। খাওয়ার উপযোগী প্রজাতি প্রায় ছয় হাজার হলেও, আমাদের দেশে ৮ থেকে ১০ রকমের মাশরুম চাষ হয়; তবে বর্তমানে আরও নতুন নতুন জাত বাজারে আসছে।’
জরজিস আরও বলেন, ‘আমি আমার প্রজেক্টে বাণিজ্যিকভাবে ৬ থেকে ৮টি জাতের চাষ করি। এর মধ্যে ওয়েস্টার, ব্ল্যাক, বোতাম, কান, শিতাকে, খড়, কিং ওয়েস্টার এবং পিংক কালার বা পপ মাশরুম অন্যতম। তবে বাজারে ওয়েস্টার মাশরুমের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।’প্রাচীনকাল থেকেই সুস্বাদু ও ঔষধি খাবার হিসেবে মাশরুম বিবেচিত হয়ে আসছে। জরজিসের প্রজেক্টে অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেরা উদ্যোক্তা হচ্ছেন।
প্রশিক্ষণ নিতে আসা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমি এখান থেকে মাশরুম চাষ শিখে বাসায় ২-৩ রকমের মাশরুম চাষ করছি। পাশাপাশি মাশরুমের বিভিন্ন রেসিপি যেমন- চপ, মোগলাই, কেক, পুডিং ও ফ্রাই তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছি। এতে আমার সংসারে ভালো আয় আসছে।’আরেক নারী উদ্যোক্তা চায়না বেগম বলেন, ‘গত দুই মাস যাবত আমি প্রশিক্ষণ নিচ্ছি এবং বাসায় পরীক্ষামূলকভাবে ওয়েস্টার, কান, ব্ল্যাক ও বোতাম মাশরুম চাষ করছি। গৃহিণী হওয়ায় বাসার সারাদিনের কাজের শেষে অল্প সময় দিয়েই ভালো আয় হচ্ছে এবং অবসর সময়ও চমৎকার কাটছে।’
মাশরুমকে অনেকে ‘সবজির প্রোটিন’ বলে থাকেন। এতে ভিটামিন সি, বি কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও কম মাত্রায় লৌহ রয়েছে। কৃষি উদ্যোক্তা জরজিস জানান, এটি এমন একটি উদ্ভিদ যা চাষ করতে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক লাগে না, তাই এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। তিনি বলেন, ‘মাশরুম মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।
যে রোগী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রতিদিন ইনসুলিন নিচ্ছেন, তিনি যদি নিয়মিত বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মাশরুম খাবার হিসেবে গ্রহণ করেন, তাহলে তার ইনসুলিন নেয়ার মাত্রা কমে আসবে এবং ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে। এছাড়া হৃদযন্ত্রের সুস্বাস্থ্য, উচ্চ রক্তচাপ, টিউমার ও ক্যানসার প্রতিরোধেও মাশরুম খুব উপকারী।’
কৃষি বিভাগ বলছে, মাশরুম চাষে ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর সদরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হাসান বলেন, ‘ছত্রাক জাতীয় পরজীবী উদ্ভিদ মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি। কৃষি বিভাগ এর সম্প্রসারণ নিয়ে কাজ করছে এবং উদ্যোক্তাদের ট্রেনিং সেন্টার বা হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জনগণ এখনও মাশরুমের উপকারিতা ও ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে তেমন জানেন না। অনেকেই একে সাধারণ ব্যাঙের ছাতা হিসেবেই দেখেন। তাই এর বাজার সেভাবে গড়ে ওঠেনি। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভোক্তা তৈরির চেষ্টাও করছি।’
বর্তমানে দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন মাশরুম উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাপী এর বাজার প্রায় ৫১ বিলিয়ন ডলারের। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চাষিদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারজাতকরণে সহায়তা দেয়া হলে উৎপাদন আরও বাড়বে। একইসঙ্গে প্রচার-প্রচারণা বাড়ালে ভোক্তার সংখ্যাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
কিউএনবি/আয়শা/১১ এপ্রিল ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৪৪