আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : রাঙামাটি জেলার কোতয়ালী থানার উদ্যোগে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সমাজ থেকে মাদক ও অনৈতিক কার্যকলাপ নির্মূলে পুলিশের এ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে রিজার্ভ বাজারসহ রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন মাদক স্পটে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন; মোঃ রাশেদুল ইসলাম (২৯), টিসু চৌধুরী (২৯), মোঃ শাহ আলম (৩৭), মোঃ আলমগীর (৩০), মোঃ রিদম (২৮), মমিন উদ্দিন (৩০) এবং মোঃ ইউসুফ (২৩)।
অভিযানের অংশ হিসেবে রিজার্ভ বাজার এলাকার কয়েকটি আবাসিক হোটেলেও তল্লাশি চালানো হয়। শুকতারা বোর্ডিং, হোটেল জেরিন ও হোটেল হিল এড্রেস নামক হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেনপিংকি আক্তার (২০), রাইসা মনি (১৯), মোছাঃ রিমি (১৯) এবং মোঃ ইব্রাহিম (৪৬)।কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: জসিম উদ্দিন বলেন, মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, আবাসিক হোটেলগুলোতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছিল। এসব কার্যকলাপ সামাজিক মূল্যবোধ ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হওয়ায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাদেরকে দ্রুত বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।সচেতন মহল মনে করছেন, পুলিশের ধারাবাহিক এ ধরনের অভিযান মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
কিউএনবি/অনিমা/২৫ মার্চ ২০২৬,/দুপুর ২:৫৭