শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জাতীয় স্মৃতিসৌধে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার সময়ে এক নারী আটক সৌদিতে স্ট্রোক করে বাংলাদেশির মৃত্যু   তেল পেতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন, সীমিত সরবরাহে বাড়ছে ভোগান্তি আটোয়ারীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা দবির উদ্দীনের লাশ দাফন ভিয়েতনামের সঙ্গে তিন গোলে হারল বাংলাদেশ রাঙামাটিতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান; ৪শ’ ইয়াবাসহ গ্রেফতার-৩৬ ‎তবে কি দেশ স্বাধীন করাই আমার অপরাধ? অপমানে কাঁদলেন বীর প্রতীক আজিজুল হক ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তায় বিশ্বকাপের পাঁচ দেশ নরসিংদীতে মাদকসেবীদের হামলায় মসজিদের ইমাম জখম আটোয়ারীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

ডায়াবেটিস রোগীরা যেসব ফল খেতে পারবেন

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪১ Time View

লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : এমন মানুষ খুব কমই আছেন যাদের ফলের মধ্যে আম, কলা, তরমুজ, আঙুর পছন্দ নয়। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে এগুলো খেতে গেলেই দ্বিধা কাজ করে। অনেকের মনে হয়, ফল খেলেই বুঝি ব্লাড সুগার হু হু করে বেড়ে যাবে। এই ভয় থেকেই কেউ কেউ একেবারে ফল খাওয়া বন্ধ করে দেন। 

কিন্তু সত্যিটা হলো—এটা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। ফল আমাদের শরীরের জন্য ভিটামিন, খনিজ আর ফাইবারের একটি প্রাকৃতিক ভাণ্ডার। ডায়াবেটিস থাকলেও ফল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই, যদি একটু বুঝে-শুনে খাওয়া যায়। আসল বিষয় হলো ফলের ধরন, পরিমাণ আর খাওয়ার সময়—এই তিনটায় ভারসাম্য রাখা। 

সব ফল একরকম নয়। কিছু ফল রক্তে শর্করা ধীরে বাড়ায়, আবার কিছু ফল দ্রুত প্রভাব ফেলে। আপেল, নাশপাতি, কমলা, বেরি জাতীয় ফল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। আর আম, কলা, আঙুর বা তরমুজ—এসব ফল খাওয়া যাবে ঠিকই, তবে পরিমাণটা হতে হবে সীমিত। 

এখানেই আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—পরিমাণ। এক বেলায় একটা মাঝারি ফল বা এক কাপ কাটা ফল যথেষ্ট। এক্ষেত্রে একেবারে অনেকটা খাওয়ার চেয়ে অল্প অল্প করে খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। 

খাওয়ার সময়টাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। খালি পেটে ফল খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই খাবারের কিছুক্ষণ পর ফল খাওয়াই ভালো। 

সবচেয়ে বড় ভুল হল ফলের রস খাওয়া। জুস বানালে ফাইবার অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়, ফলে সুগার দ্রুত বেড়ে যায়। তাই রস নয়—আস্ত ফলই সবচেয়ে ভালো পছন্দ। 

সবশেষে মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক মানুষের শরীর আলাদা। যে ফল একজনের জন্য ভালো কাজ করে, সেটা আরেকজনের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। তাই নতুন ফল খেলে মাঝে মাঝে ব্লাড সুগার মেপে দেখা নিজের জন্যই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। 

সব ফল কি এক রকম?

না। সব ফলে শর্করার পরিমাণ এক নয়। কিছু ফলে প্রাকৃতিক চিনি তুলনামূলক বেশি, আবার কিছু ফলে ফাইবার বেশি থাকায় তা ধীরে ধীরে রক্তে শর্করা বাড়ায়। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও ফাইবারের পরিমাণ এখানে গুরুত্বপূর্ণ। 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ ফল কোনগুলো?

আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, কমলা, মাল্টা, পেঁপে, বেদানা ও বেরিজাতীয় ফল (যেমন স্ট্রবেরি) – এসব ফলে ফাইবার বেশি থাকে এবং রক্তে শর্করা তুলনামূলক ধীরে বাড়ে। 

যেসব ফলে সতর্কতা দরকার

আম, কলা, কাঁঠাল, আঙুর ও লিচুতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি। এগুলো একেবারে নিষিদ্ধ নয়, তবে অল্প পরিমাণে এবং নিয়মিত নয় – এই নীতি মানা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অতিরিক্ত শর্করা যেকোনো উৎস থেকেই রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে। 

ফলের রস কেন ভালো নয় 

ফলের জুসে ফাইবার প্রায় থাকে না, কিন্তু চিনি পুরোটাই থাকে। ফলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যায়। তাই গোটা ফল খাওয়াই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো বিকল্প। 

কখন এবং কীভাবে ফল খাবেন

খালি পেটে না খেয়ে খাবারের দিনের মাঝামাঝি সময় বা হালকা নাস্তা হিসেবে ফল খেলে রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা কম হয়। পরিমাণের দিকে নজর রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ – এক বেলায় এক ধরনের ফলই যথেষ্ট।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল শত্রু  নয়। সঠিক ফল, সঠিক পরিমাণ আর সঠিক সময় – এই তিনটি মানলে ফল ডায়েটেরই অংশ হতে পারে।  

সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মায়ো ক্লিনিক 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৪:৩৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit