শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চিরিরবন্দর উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালতে মাদক ব্যবসায়ীর ২ বছরের সাজা॥ সরকারের কাজে কোনো গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী মায়ের অনুপ্রেরণায় টমাস আলভা এডিসনের মতো এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান এমপি বাবুর ২০২৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে পারে আইসল্যান্ড-মন্টেনিগ্রো শপথ নিয়েই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ঘোষণা কলম্বিয়া সরকারের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসন মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোকে ‘ঐক্যের’ ডাক ইরানের বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রী ৮ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দেওয়া কে এই থমসন? ২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন এই ১০ তরুণ পুতিনের মিসাইল হামলার বড় অস্ত্র ব্যালিস্টিক, কী করবে ইউক্রেন?

ইসলামের আলোকে পুরুষদের বর্জনীয় কিছু অভ্যাস

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : পুরুষরা অলসতাবশত বা কর্মব্যস্ততার অজুহাতে বা গাফিলতির কারণে ঈমান শিক্ষা করে না এবং ফরজে আইন পরিমাণ ইলম অর্জন করে না। অথচ শরিয়ত এটা ফরজ ঘোষণা করেছে এবং এ ব্যাপারে কোনো হিলা-বাহানা গ্রহণযোগ্য নয়।

নিজের বিবি বাচ্চাদের দ্বিনি জরুরি তালিম দেওয়া থেকে উদাসীন থাকে; অথচ এটাও তার ওপর ফরজ দায়িত্ব। (তারগিব তারহিব, পৃষ্ঠা-৩০৪৮)

সালামের অভ্যাস উম্মত থেকে বিদায় নিচ্ছে, যা ছিল গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। অন্যদিকে অনেকে তো সালামের জবাবই দেয় না, আর কেউ দিলেও ঘাড় নেড়ে বা মনে মনে দেয়। অথচ জবাব শুনিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ৮৭৮৭)

স্ত্রী থেকে নিজের হক পাওনা থেকে বেশি আদায় করে, কিন্তু তার ওপর স্ত্রীর যে অধিকার আছে, তা আদায় করতে রাজি না। বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের ওপর জুলুম করে থাকে।এটা অন্যায়। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২২৮)

সাংসারিক কোনো কাজে পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে না। যার কারণে পারস্পরিক অন্তঃকলহ বেড়ে যায়। স্ত্রী ও বুঝমান সন্তানদের সঙ্গে পরামর্শ করবে, তারপর যেটা ভালো বুঝে আসে, যেটার মধ্যে কল্যাণ মনে হয়, সেটার ফয়সালা দেবে। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

নিজের মা-বাবার খেদমত স্ত্রীর ওপর ফরজ মনে করে, অথচ মা-বাবার খেদমত ছেলের দায়িত্ব, স্ত্রীর দায়িত্ব নয়। স্ত্রীর দায়িত্ব হলো স্বামীর খেদমত করা এবং সুযোগমতো নিজ মা-বাবার খোঁজখবর রাখা। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৮৩)

অনেক বোকা পুরুষ বিয়ের পর নিজ মা-বাবা, ভাই-বোনকে পর ভাবতে শুরু করে। আর শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের আপন মনে করে। এমনটা করা মোটেও ঠিক নয়। বরং উভয় কুলের আত্মীয়দের তাদের প্রাপ্য হক যথাযথভাবে দেওয়া কর্তব্য। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৮৬)

সন্তান ছেলে হওয়ার ব্যাপারে বেশি আগ্রহ থাকে, পক্ষান্তরে মেয়ে হলে স্ত্রীকে দোষারোপ করতে থাকে। অথচ ছেলে বা মেয়ে হওয়া আল্লাহর ইচ্ছা, এতে স্ত্রীর কোনো হস্তক্ষেপ নেই। অন্যদিকে মেয়েসন্তানের ফজিলত অনেক বেশি, মেয়েসন্তান লালন-পালন ও দ্বিনি তালিমকে বেহেশতের সনদ বলা হয়েছে। (সুরা : শুরা, আয়াত : ৪৯, সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪১৮)

যৌবনের তাড়নায় ভোগবিলাসে মত্ত থাকে। ইসলামের হুকুম-আহকাম মেনে চলে না। ইসলামী জীবনযাপন বার্ধক্যের জন্য গচ্ছিত রাখে। যেমন—যুবক অবস্থায় হজ ফরজ হলেও তা আদায় করা বার্ধক্যের সময়ের দায়িত্ব মনে করে, অথচ এটা গুনাহর কাজ। (ফাতাওয়ায়ে শামি, খণ্ড-৩ পৃষ্ঠা-৫২০)

বিয়ের মজলিসে বেশি পরিমাণ মোহরানা নির্ধারণ করা সামাজিক মর্যাদার বিষয় হিসেবে দেখা হয়। অথচ এটা মর্যাদার কোনো বিষয় নয়। নবী (সা.)-এর স্ত্রী ও কন্যাদের সর্বোচ্চ মোহর ছিল দেড় শ তোলা রুপা বা তার সমমূল্য। তা ছাড়া মোটা অঙ্কের মোহর ধার্যকালে বেশির ভাগ লোকের তা পরিশোধ করার নিয়ত থাকে না, যা অনেক বড় গুনাহ।

উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের তোয়াক্কা করে না। ন্যায়-অন্যায় যে পথেই পয়সা আসে, সেটাই গ্রহণ করে থাকে এবং নিজের উপার্জনের মাধ্যমকেই রিজিকদাতা ভাবে। যে কারণে তা নষ্ট হলে পেরেশানির সীমা থাকে না। অথচ এগুলো মাধ্যম বা রিজিক পৌঁছানোর পিয়ন মাত্র। আসল রিজিকদাতা হলেন মহান রাব্বুল আলামিন। কারো রিজিকের একটা পথ বন্ধ হলে তিনি আরো পথ খুলে দেন। (সুরা : মুমিন, আয়াত : ৫১, সুরা : হুদ, আয়াত : ৬)

অনেকে মা-বাবাকে সম্মান করে না। তাঁদের খোঁজখবর রাখে না। অথচ মা-বাবার সন্তুষ্টি ছাড়া জান্নাতে যাওয়া যাবে না। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৬৬২)

অনেক বদমেজাজি পুরুষ সামান্য কারণে স্ত্রীকে মারধর করে থাকে। এমনকি রাগের মাথায় তিন তালাক দিয়ে দিতেও কুণ্ঠা বোধ করে না। এজাতীয় পুরুষরা আল্লাহর স্পষ্ট হুকুম—‘আর স্ত্রীর সঙ্গে সত্ভাবে জীবন যাপন করো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯)-এর ওপর আমল করছে না এবং আল্লাহর দয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক ভবঘুরে স্বামী নিয়মিত সংসারের খোঁজখবর রাখে না। তাদের হক আদায়ের কোনো তোয়াক্কা করে না। অনেক মূর্খ মানুষ এটাকে বলে আল্লাহর ওপর ভরসা করি, যা ইসলামবিরোধী কথা।

অনেক ভাই বোনদের পাওনা মিরাস আদায় করতে চায় না। অথচ বোনদের পাওনা আদায় করা ভাইদের ওপর ফরজ দায়িত্ব। এটা না করলে তাদের রিজিক হারামমিশ্রিত হয়ে যায় এবং জান ও মালের বরকত নষ্ট হয়ে যায়। আরো দুঃখজনক কথা হলো, অনেক জালিম পিতাও নিজের মেয়েকে মাহরুম করতে বা কম দিতে চেষ্টা করে থাকে; অথচ হাদিস অনুযায়ী এটা সরাসরি জাহান্নামে যওয়ার রাস্তা। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৮, মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২১১৩৯)

স্বামীরা স্ত্রীদের দায়িত্ব তথা সংসার সামলানোকে ছোট নজরে দেখে এবং এটা স্ত্রীর দায়িত্ব মনে করে, তাই এটার কোনো মূল্যায়নও করে না। এবং কখনো স্ত্রীর রান্নাবান্নার এবং অন্যান্য ভালো কাজের শুকরিয়া আদায় ও প্রশংসা করতে চায় না। এতে স্ত্রীরা সাংসারিক কাজে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। অথচ স্বামীর সামান্য প্রশংসায় স্ত্রী হাজারো কষ্টের কাজ হাসিমুখে আঞ্জাম দিতে পারে। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ১৯৫৫)

অনেকে বিয়ের পর স্ত্রীপক্ষ থেকে যৌতুক গ্রহণ করে। কেউ কেউ যৌতুকটাই ভিন্ন নামে ভিন্নভাবে গ্রহণ করে। অথচ চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বা কৌশল করে কারো থেকে ধন-সম্পদ অর্জন করা হারাম। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৮, মুসনাদে অহমদ, হাদিস : ২১১৩৯)

পুরুষরা সাধারণত বিয়ের জন্য পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দৈহিক সৌন্দর্য ও বিত্ত-বৈভবকে দ্বিনদারির ওপরে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। অথচ হাদিসে দ্বিনদারিকে সৌন্দর্য ও সম্পদের ওপর অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে এবং এরই মধ্যে কামিয়াবি নিহিত আছে বলা হয়েছে। এর ব্যতিক্রম করলে সুখ-শান্তি তো হয়ই না, বরং দুনিয়া ও আখিরাত ধ্বংস হয়। (বুখারি, হাদিস : ৫০৯০)

অনেক নব্যশিক্ষিত মানুষ কোরআন-হাদিসের বাংলা অনুবাদ ও ব্যাখ্যা পড়ে নিজেকে ইসলামী চিন্তাবিদ মনে করে। এমনকি হাদিস ও ফিকহের অনেক বিষয়ে দ্বিনের বিশেষজ্ঞ তথা হক্কানি আলেমদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়। এদের ব্যাপারে হাদিসে কঠোর ধমকি এসেছে। এদের উচিত হক্কানি উলামাদের সমালোচনা ছেড়ে দিয়ে তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী জীবন যাপন করা। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৬০)

অনেকে দ্বিন শেখার জন্য আলেমদের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করে না। বরং বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বা ইন্টারনেট প্রোগ্রামকে দ্বিন শেখার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে। অথচ এসব গুমরাহির মাধ্যম। কিয়ামত পর্যন্ত ঈমান ও আমল হাসিলের একমাত্র পথ হক্কানি উলামায়ে কেরামের সাহচর্য। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১১৯, সুনানে দারেমি, হাদিস : ৪২৭)

সাধারণ মানুষ ব্যবসা, লেনদেন, বিবাহ, তালাক ইত্যাদির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর হুকুম-আহকাম সম্পর্কে উলামাদের কাছে জিজ্ঞাসা করে না। যখন কঠিন কোনো সমস্যায় নিপতিত হয়, তখন আলেমদের কাছে ছুটে যায়, অথচ আগেই যদি সে আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিত, তাহলে হয়তো এই সমস্যার সম্মুখীন হতো না। অথবা সমাধান দেওয়া সহজ হতো। (সুরা : নাহল, আয়াত : ৪৩)

কিউএনবি/অনিমা/২৬ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ৬:২১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit