বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

মালিককে না জানিয়ে চুরির মাল ফেরত দেওয়ার বিধান কী?

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : কেউ যদি কাউকে (প্রকৃত মালিককে) না জানিয়ে তার কিছু মালামাল বা টাকা নিয়ে যায়, পরে তাকে না জানিয়ে সেই টাকা তার মোবাইলে পাঠিয়ে দেয় অথবা তার নামে সদকা করে দেয়, তাহলে কি চুরির দায় থেকে মুক্ত হবে? এ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

সংক্ষেপে বললে—কারও অজান্তে তার মাল বা টাকা নেওয়া চুরি/গাসব (অন্যায় দখল)। পরে তাকে না জানিয়ে সেই টাকা মোবাইলে পাঠিয়ে দেওয়া বা তার নামে সদকা করে দেওয়া—এগুলো দ্বারা চুরির দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। ইসলাম এ বিষয়ে খুব পরিষ্কার।

নিচে দলিলসহ ব্যাখ্যা দেওয়া হলো—

১. অজান্তে কারও মাল নেওয়া—স্পষ্ট হারাম

আল্লাহ তাআলা বলেন—

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡكُلُوۡۤا اَمۡوَالَكُمۡ بَیۡنَكُمۡ بِالۡبَاطِلِ

‘হে মুমিনগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ২৯)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

وَ لَا تَاۡكُلُوۡۤا اَمۡوَالَكُمۡ بَیۡنَكُمۡ بِالۡبَاطِلِ

‘তোমরা অন্যায়ভাবে পরস্পরের সম্পদ গ্রাস করো না।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৮)

> তাই প্রকৃত মালিককে না জানিয়ে কিছু নেওয়া শরিয়তসম্মত নয়; এটি গুনাহ।

২. পরে গোপনে টাকা পাঠিয়ে দিলেই দায় শেষ হয় না

ইসলামের মূলনীতি হলো—অধিকার যার, সম্মতি দেওয়ার অধিকারও তার।

ফিকহের কায়দা

‘হকদারকে তার হক ফিরিয়ে দেওয়া এবং তার সন্তুষ্টি অর্জন করা ফরজ।’ অতএব— মালিককে জানানো ছাড়া টাকা পাঠানো বা বিষয়টি গোপন রেখে টাকা ফেরত দেওয়া—

> এগুলো পূর্ণ ক্ষতিপূরণ (রদ্দুল মাযালিম) হিসেবে গণ্য হয় না, যতক্ষণ না মালিক জানে এবং সন্তুষ্ট হয়।

৩) মালিককে না জানিয়ে তার নামে সদকা—গ্রহণযোগ্য নয়

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি অপবিত্র (হারাম) সম্পদ গ্রহণ করেন না।’ (মুসলিম ১০১৫, তিরমিজি ২৯৮৯, মুসনাদ আহমাদ ৮৮৪৬)

আর আলেমদের সর্বসম্মত মত—

চুরি বা অন্যায়ভাবে নেওয়া সম্পদ দিয়ে সদকা করলে সেই সদকা কবুল হয় না; বরং গুনাহ আরও বেড়ে যায়। কারণ—

> সদকা করার অধিকার মালিকের, চোরের নয়

> মালিকের অনুমতি ছাড়া সদকা করা অকার্যকর

৪. তাহলে কী করলে গুনাহ থেকে মুক্তি মিলবে?

ইসলামে খাঁটি তাওবার ৪টি শর্ত আছে—

> গুনাহ সম্পূর্ণ ছেড়ে দেওয়া

> অন্তরে অনুশোচনা করা

> ভবিষ্যতে আর না করার দৃঢ় সংকল্প

> যার হক নষ্ট হয়েছে, তার হক ফিরিয়ে দেওয়া এবং তার ক্ষমা চাওয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ كَانَتْ لَهُ مَظْلَمَةٌ لأَخِيهِ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ شَيْءٍ فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهُ الْيَوْمَ قَبْلَ أَنْ لاَ يَكُونَ دِينَارٌ وَلاَ دِرْهَمٌ 

‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রমহানি বা অন্য কোন বিষয়ে জুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নেয়, সে দিন আসার পূর্বে যে দিন তার কোন দ্বীনার বা দিরহাম থাকবে না।’ (বুখারি ২৪৪৯)

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (ফয়সালা)

> না জানিয়ে নেওয়া— চুরি/গুনাহ

> গোপনে টাকা পাঠানো— দায়মুক্তি নয়

> তার নামে সদকা— গ্রহণযোগ্য নয়

> জানিয়ে মাল ফেরত এবং ক্ষমা চাওয়াই একমাত্র দায়মুক্তির পথ

তবে কোনো কোনো আলেম বলেন, প্রকৃত মালিকের টাকা তার অজান্তে তার মোবাইলে (বা তার ঠিকানায়) পাঠিয়ে দিলেও আদায় হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, যার টাকা নেওয়া হয়েছে সে যদি পরিচিত হয় এবং জীবিত থাকে, তাহলে তার পক্ষ থেকে সদকা করে দিলে তা আদায় হবে না।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৬ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:২০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit