মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকাসহ যেসব অঞ্চলে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আভাস প্রতিদিন কাঁচা রসুন খেলে যেসব বড় রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন ভূরুঙ্গামারীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করলেন এমপি আনোয়ারুল ৩ দিনের মধ্যেই নতুন কোচ পাচ্ছেন হামজারা, আলোচনায় আছেন যারা  কোম্পানীগঞ্জে আগ্নেয়াস্ত্র-ইয়াবাসহ আটক ৬ চৌগাছায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্য দিবস পালন খাগড়াছড়িতে বিএনপি-জামায়াত পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ, আহত ৪। হাকালুকি হাওর পাড়ের কৃষকদের বৈরী আবহাওয়া আর বানের জলের সাথে লড়াই  মে মাসের ১২ কেজি এলপিজির দাম ঘোষণা একটু বৃষ্টিতেই ডুবছে ঝালকাঠির সড়ক, টেন্ডার হলেও কাজ শুরু না করায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ

রমজান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের মাস

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ৮৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : রমজান মুমিনের ইবাদত ও আনুগত্যের মাস। তবে অনেকেই রমজানকে বাহ্যিক ইবাদতে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। ফলে রমজান তাদের জন্য ফলপ্রসূ হয় না। রমজানকে ফলপ্রসূ করতে হলে নিজের মন ও মস্তিষ্কে তাকে স্থান দিতে হবে এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয়ভাবে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে, বিশেষত ইবাদতে পূর্ণ মনোযোগ স্থাপন জরুরি।

কেননা মন ও দেহের পরিচালক এবং আল্লাহর দরবারে বাহ্যিক ইবাদতের চেয়ে অন্তরের অবস্থা বেশি মূল্যবান। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের বাহ্যিক চাল-চলন ও বিত্তবৈভবের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না; বরং তিনি দৃষ্টি দিয়ে থাকেন তোমাদের অন্তর ও আমলের প্রতি।’
(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৪)

প্রকৃত পক্ষে ইসলাম মানুষকে ইবাদতের সময় তাঁর সর্বস্ব আল্লাহর সামনে সমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ সে আল্লাহর ইবাদত করবে হৃদয় ও আত্মা দিয়ে, জ্ঞান ও চিন্তা দিয়ে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও শিষ্টাচার দিয়ে।

মানুষের জন্য এটা বৈধ নয় যে একদিকে সে তার বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে ইবাদত করবে আর অন্যদিকে তাঁর মন-মস্তিষ্ক আল্লাহ থেকে বিমুখ থাকবে। ইবাদতের সময় আল্লাহর সামনে নিজের সবটুকু অর্পণ করার এই নির্দেশ সব সময়ের জন্য। ইবাদত ও আনুগত্যের মাস রমজানে যার দাবি আরো জোরাল হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে এবং নামাজ কায়েম করতে ও জাকাত দিতে, এটাই সঠিক দ্বিন।’
(সুরা : বাইয়িনা, আয়াত : ৫)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমার নামাজ, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মরণ জগত্গুলোর প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬২)

 আত্মসমর্পণের পাঁচ উপায়

রমজান মাসকে নিজের মন-মস্তিষ্কে স্থান দেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর দরবারে সমর্পণ করার পাঁচটি উপায় হলো—

১. নিজেকে সংশোধন করা : পবিত্র রমজান মাস হলো নিজেকে সংশোধন করার মাস। মুমিন রমজানে তাঁর অতীত পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, ভবিষ্যতে পাপ না করার অঙ্গীকার করে এবং নিজেকে অধিক পরিমাণে নেক আমলে ন্যস্ত করে। এভাবে সে হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ নতুন মানুষ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া কে পাপ ক্ষমা করবে? এবং তারা যা করে ফেলে, জেনেশুনে তারই পুনরাবৃত্তি করে না।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৩৫)

২. নতুন জীবনের প্রত্যয় : রমজান মাসে কোরআন নাজিলের সূচনা হয়। এর মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.) নবুয়ত লাভ করেন এবং উম্মতে মুহাম্মদির জন্ম হয়। অর্থাৎ পবিত্র এই মাসে উম্মতে মুহাম্মদি নবুয়তের গৌরব লাভ করে, আসমানি আমানতের ধারক হয় এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য আসমানি হেদায়েত উন্মুক্ত হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারি এবং সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৫)

রমজান মাসে যেমন এই উম্মতের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তেমনি এই মাসে আমাদের উচিত নতুন জীবনের প্রত্যয় গ্রহণ করা। আর তা হবে আত্মশুদ্ধি, চিন্তার বিশুদ্ধতা, আমলের দৃঢ়তা, চারিত্রিক সৌন্দর্য ও উত্তম বৈশিষ্ট্য ধারণের মাধ্যমে। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘যখন তুমি রোজা রাখো, তখন যেন তোমার কান, চোখ ও জিহ্বা রোজা রাখে মিথ্যা ও পাপাচার থেকে। তুমি সেবকদের কষ্ট দেওয়া ছেড়ে দাও, যেন সে রোজার দিনে তোমার জন্য শান্তি ও স্বস্তি হয়। তোমার রোজা রাখার দিন ও রোজাহীন দিন যেন সমান না হয়।’ (মাউসুয়াতুল হাদিসিন-নববিয়্যা, রোজাবিষয়ক অধ্যায়, পৃষ্ঠা-৪৭৯)

৩. ঐশী জ্ঞান ধারণ করা : রমজান ঐশী জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হওয়ার মাস। কেননা এই মাসেই মুসলিম জাতি ঐশী জ্ঞানের প্রধান উৎস কোরআন লাভ করেছিল। আর কোরআন নাজিলের উদ্দেশ্য হলো মানুষ তা পাঠ করবে, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে এবং কোরআন অনুযায়ী আমল করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এক কল্যাণময় কিতাব, এটা আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতগুলো অনুধাবন করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা গ্রহণ করে উপদেশ।’ (সুরা : সোয়াদ, আয়াত : ২৯)

৪. উত্তম গুণে গুণান্বিত হওয়া : রমজান মুমিনকে উত্তম গুণে গুণান্বিত হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। মুমিন আত্মসংযম ও পাপ পরিহারের মাধ্যমে উত্তম গুণ অর্জনের অনুশীলন শুরু করবে। আর এই কাজের পূর্ণতা আসবে মহানবী (সা.)-এর উসওয়া বা আদর্শ নিজের ভেতর বাস্তবায়নের মাধ্যমে। এ জন্যই নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে মিথ্যা কথা, মন্দ কাজ ও মূর্খতা ত্যাগ করতে পারল না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯০৩)

৫. আমলের ধারাবাহিকতা রক্ষা : মুমিন রমজান মাসে নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর দরবারে সমর্পণ করতে পারল কি না, তার প্রমাণ মেলে রমজানের পর তাঁর আমলের ধারাবাহিকতা রক্ষার মাধ্যমে। কেননা রমজান মুমিনের জন্য প্রশিক্ষণকালের মতো। এ মাসে মুমিনরা নেক কাজের অনুশীলন করে, নেক কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। রমজানের পর মুমিনের করণীয় হলো এই আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ ওই আমলকে ভালোবাসেন, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা পরিমাণে কম হয়। তিনি (সা.) কোনো আমল করলে তা নিয়মিতভাবে করতেন।
(সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৩৬৮)

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

কিউএনবি/অনিমা/১১ মার্চ ২০২৬,/সকাল ৬:০৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit