শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩১ অপরাহ্ন

নাগরিক দায়িত্বে রোজার প্রভাব

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৯৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : রমজান শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের মাস নয়; এটি সামাজিক শৃঙ্খলারও প্রশিক্ষণকাল। রোজা মানুষকে ক্ষুধা, পিপাসা সহ্য করতে শেখায়। শেখায় সংযম, ধৈর্য ও দায়িত্ববোধ। প্রশ্ন হলো- এই সংযম কি আমাদের নাগরিক জীবনে প্রতিফলিত হচ্ছে? ব্যক্তিজীবন থেকে অফিসের ডেস্ক পর্যন্ত, রোজার শিক্ষা কতটা কার্যকর? আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দেন।’ (সুরা নাহল : ৯০)

এই আয়াত কেবল আদালতের জন্য নয়; এটি রাস্তার জন্যও প্রযোজ্য, অফিসের জন্যও প্রযোজ্য। প্রযোজ্য পারিবারিক ও সামাজিক যাবতীয় পর্যায়ে। রোজা মানুষকে নিজের নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়বিচার শেখায়। অথচ আমরা দেখি উলটো চিত্র। অস্থিরতা, আইন ভঙ্গ, বেপরোয়া ব্যবহার, সামান্য কারণে তর্কবিতর্ক। যেন রোজা আমাদের ধৈর্য বাড়ায়নি, বরং অস্থিরতাকে উসকে দিয়েছে। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ রোজা রাখলে সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং মূর্খতায় লিপ্ত না হয়। কেউ যদি তাকে গালি দেয় অথবা হত্যায় উপনীত হয়, সে যেন বলে আমি রোজাদার।’ (সহিহ বুখারি)। এই নির্দেশ শুধু মসজিদের জন্য নয়; জীবনের সব ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য। নাগরিক দায়িত্বের একটি ক্ষেত্র হলো কর্মক্ষেত্র। অফিসে সময়মতো উপস্থিতি, দায়িত্বশীলতা, সততা, এসবই ইবাদতের অংশ। কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তাদের থামাও, তারা জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সুরা সাফফাত : ২৪)। এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রতিটি দায়িত্বের জন্য জবাবদিহি আছে। অফিসে গাফিলতি, কাজে অবহেলা বা দুর্নীতি, এসব রোজার আত্মাকে আঘাত করে। ক্ষুধা আমাদের মনে করিয়ে দেয় দরিদ্রের কথা, তৃষ্ণা শেখায় সংযম। তাহলে রাস্তায় কেন আমরা অন্যের অধিকার হরণ করি? অফিসে কেন দায়িত্ব এড়িয়ে চলি? রোজার প্রকৃত প্রভাব তখনই দৃশ্যমান হবে, যখন সব নিয়মনীতি মানা হবে ইমানের আলোতে, কর্মক্ষেত্র ও অফিসের সততা হবে তাকওয়ার বহির্প্রকাশ হিসেবে। আজকের সমাজে নাগরিক শৃঙ্খলা বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু রমজান সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শক্তি দেয়। যদি রোজা আমাদের ধৈর্যশীল করে, তবে বিপদে, ব্যস্ততায় আমরা শান্ত থাকব। যদি রোজা আমাদের সৎ করে, তবে অফিসে আমরা দায়িত্বশীল হবো। যদি রোজা আমাদের আল্লাহভীরু করে, তবে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। রোজা শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু নাগরিক জীবন চলবে। তাই প্রয়োজন, রমজানের শিক্ষা সারা বছরের জন্য ছড়িয়ে দেওয়া। রোজা তখনই সফল, যখন তা মসজিদের ভিতর সীমাবদ্ধ না থেকে বাসাবাড়ি, রাস্তা, বাজার, অফিস, আদালত ও রাষ্ট্রীয় অঙ্গনে দৃশ্যমান হবে। নাগরিক দায়িত্বে সচেতন একটি সমাজ রমজানের প্রকৃত ফসল। আর সেই সমাজ গড়ার কাজটি শুরু হতে পারে আজ আমার এবং আপনার হাত ধরেই। 

লেখক : গবেষক, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।

কিউএনবি/অনিমা/০৯ মার্চ ২০২৬,/রাত ১০:২৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit