শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন

এবার কোন দেশে কত ঘণ্টা রোজা হবে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের জন্য রহমতের বার্তা নিয়ে আসছে ২০২৬ সালের রমজান। সময়ের দীর্ঘতা কমবে অনেক দেশে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এবার আরব বিশ্বের অধিকাংশ দেশে প্রতিদিন রোজার সময় হবে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা, যা সাম্প্রতিক কয়েক বছরের তুলনায় মাঝামাঝি ও সহনীয় বলে গণ্য করা হচ্ছে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে শুক্রবার ২০ মার্চ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর গোলার্ধে শীতের শেষভাগ ও বসন্তের শুরুতে রমজান শুরু হওয়ায় এবার দিনের দৈর্ঘ্য তুলনামূলক কম থাকবে। ফলে শুরুতে রোজার সময় কিছুটা কম হলেও মাসের শেষের দিকে ধীরে ধীরে তা বাড়বে।

বিভিন্ন দেশে রোজার সময় ভিন্ন হওয়ার কারণ

রোজার সময় মূলত ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। বিষুবরেখার কাছাকাছি দেশগুলোতে সারা বছর দিন-রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় একই থাকে। কিন্তু উত্তর বা দক্ষিণে যত দূরে যাওয়া যায়, ঋতুভেদে দিনের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য তত বাড়ে।

২০২৬ সালে রমজান বসন্ত বিষুবের আগেই শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে মাসের শুরুতে দিন তুলনামূলক ছোট থাকবে, আর শেষের দিকে ধীরে ধীরে বড় হবে।

মিসরের রাজধানী কায়রোতে রোজার সময় শুরুতে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট হতে পারে, যা মাসের শেষ দিকে গিয়ে ১৩ ঘণ্টার কাছাকাছি পৌঁছাবে। শীতল আবহাওয়া রোজা পালনে কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই ধরনের চিত্র দেখা যাবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে। এসব দেশে শহরভেদে সামান্য তারতম্য থাকলেও রোজার সময় সাধারণত ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যেই থাকবে।

লেভান্ট অঞ্চল ও ইরাকেও প্রায় একই ধারা থাকবে। উত্তর আফ্রিকার মরক্কো, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ায় সূর্যাস্তের সময় ও দ্রাঘিমার কারণে সামান্য পার্থক্য দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে সময়ের পরিসর একই থাকবে।

ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় দীর্ঘ সময় রোজা

আরব বিশ্বের তুলনায় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার কিছু অঞ্চলে রোজার সময় কিছুটা বেশি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শুরুতে রোজা হবে প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টা, যা মার্চের শুরুতে গিয়ে ১৩ ঘণ্টা বা তার সামান্য বেশি হতে পারে।

যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে উচ্চ অক্ষাংশের কারণে দিনের দৈর্ঘ্য আরও বেশি হওয়ায় রোজার সময় মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় দীর্ঘ হবে। যদিও ২০২৬ সালে তা খুব চরম পর্যায়ে যাবে না।

রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মতো কিছু এলাকায় আগের বছরগুলোতে ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় রোজা রাখতে হয়েছে, আবার কখনো দিন অত্যন্ত ছোট হওয়ায় সময় কমেও গেছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক মুসলমান নিকটবর্তী কোনো মাঝামাঝি অঞ্চলের সময়সূচি বা মক্কার সময় অনুসরণ করেন।

সব মিলিয়ে, বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের রমজান বিশ্বের অধিকাংশ মুসলমানের জন্য তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ হবে। রোজার দিনগুলোতে মাঝারি সময় এবং সহনীয় আবহাওয়ার কারণে ইবাদত-বন্দেগি সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৬ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:২২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit