স্পোর্টস ডেস্ক: কোনো এক আড্ডার স্মৃতিমেদুর মুহূর্তে বলেছিলেন, তুমি যাবে আমার সঙ্গে? বন্ধু ডি পল ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন। কিন্তু সত্যি সত্যিই যে নিজের বিমানে ডি পলকে উঠিয়ে মায়ামি থেকে বার্সেলোনা রওনা হবেন মেসি, কেউ যাতে চিনতে না সেজন্য রাতে মাথায় হুডি উঠিয়ে ক্যাম্প ন্যুর ফটকের সামনে দাঁড়াবেন, ফেলে আসা প্রিয় আঙিনায় কয়েক মিনিটের জন্য দাঁড়িয়ে ফিরে আসবেন আর্জেন্টিনায়– এতটা সত্যিই ভাবেননি ডি পল। সিংহের মতো ক্যাম্প ন্যুতে ঢুকে স্টেডিয়ামের চারপাশটা ঘুরে দেখে মেসি বলেছিলেন,
‘এটা আমার বাড়ি, ডি পল’ টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সেই রাতে সাড়ে চার হাজার মাইল পাড়ি দেওয়া এক প্রেমিকের কথাই বলছিলেন যেন ডি পল। মেসির হৃদয়ের ঠিক কতটা গভীরে আছে বার্সেলোনা– কাতালুনিয়ান ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘দারিও স্পোর্তো’ সেই ভালোবাসার অতল খোঁজার চেষ্টা করেছে। দৈনিকটি বার্সার ‘সবচেয়ে ভালোবাসার খেলোয়াড়’ হিসেবে একটা পুরস্কার দিতে যাচ্ছে মেসিকে। যখন মায়ামিতে গিয়ে মেসির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিকটির ক্রীড়া সাংবাদিক আলবার্ত মার্সন্যু, তারও দুই সপ্তাহ পর ক্যাম্প ন্যুতে চুপি চুপি এসেছিলেন মেসি।প্রশ্ন : বার্সেলোনায় এখনও আপনাকে মানুষ ভীষণ ভালোবাসে, তারা আপনাকে ‘সবচেয়ে ভালোবাসার খেলোয়াড়’ হিসেবে দেখে? এই অনুভূতিটা ঠিক কেমন?
প্রশ্ন: অনেক বছর হয় ছেড়ে এসেছেন। নতুন খেলোয়াড়, নতুন আশা নিয়ে বার্সায় খেলছে। তবে এখনও বার্সার সমর্থকরা আপনাকে ভোলেননি, তাদের শরীরে ট্যাটুতে আপনার নাম লেখা আছে।
প্রশ্ন : বার্সার পর প্যারিসে গিয়ে মানিয়ে নিতে পারেননি, মায়ামিতে এসে কীভাবে সবকিছু মানিয়ে নিয়েছেন?
মেসি : প্যারিস শহরটি ভীষণ সুন্দর। কিন্তু আমি সেখানে অনেক কারণেই সুখী ছিলাম না। মায়ামিতে আমরা অন্যভাবে দিনগুলো উপভোগ করছি। এখন অনেক রিলাক্সড আমি। সেভাবে খেলাগুলো নিয়ে অতটা চাপ নেই। বিধিনিষেধ, নিয়মকানুন কম। এখানে পরিবারের সঙ্গে সময়গুলো অনেক বেশি উপভোগ করছি। বাচ্চাদের সময় দিতে পারছি বেশি। এখানে ফুটবল নিয়ে অত ভাবনা নেই, মায়ামিতে আমি বাড়িতেই বেশি সময় কাটাতে পারি। পরিবারের সঙ্গে ফুটবলের বাইরে অন্যান্য ব্যাপারগুলো নিয়ে কথা হয় বেশি।
প্রশ্ন : বিশ্বকাপ নিয়ে যদি কথা বলি, আর তো বেশি সময় নেই। উত্তেজনা কাজ করছে কি?
মেসি : অবশ্যই! এটা একটা বিশেষ বিশ্বকাপ। জাতীয় দলের হয়ে খেলা সব সময়ই বিশেষ কিছু। তার ওপর বিশ্বকাপ জয়ের পর এই আসরটির অর্থ এখন আমার জন্য আরও বিশেষ কিছু। কিন্তু আমি যেটা আগেও বলেছি, আমি দলের বোঝা হতে চাই না। আমি শারীরিকভাবে ফিট থাকতে চাই। নিশ্চিত করতে চাই, আমি দলের জন্য যেন কিছু করতে পারি, অবদান রাখতে পারি নিজের সেরাটা দিয়ে। আমেরিকায় আমাদের ফুটবল মৌসুম ইউরোপের চেয়ে ভিন্ন। এখানে বিশ্বকাপের আগে লিগে কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারব আমি এবং তখনই দেখব আমি সত্যিই শারীরিকভাবে যথেষ্ট ফিট বোধ করছি কিনা। যেটা কিনা আমাকে আর্জেন্টিনা দলে থাকার জন্য আস্থা জোগাবে। বিশ্বকাপের আগে প্রতিটি দিন আমি নিজেই নিজের ফিটনেসের ওপর পর্যবেক্ষণ করব। প্রশ্ন : সব শেষে ফুটবল বিশ্বে আপনার ভক্ত ও বার্সা সমর্থকদের জন্য কিছু বলুন?
মেসি : আমি সত্যিই বার্সাতে ফিরতে চাই। আমার পরিবার বার্সেলোনাকে ভীষণ মিস করে। বাড়িতে আমার স্ত্রী ও সন্তানরা সারাক্ষণ বার্সা নিয়ে গল্প করে। সেখানে তারা কীভাবে থাকত, কোথায় কোথায় যেত– এসব বলে আনন্দ পাই। আমাদের সেখানেও (বার্সেলোনায়) একটা বাড়ি আছে। ক্যাম্প ন্যুর সংস্কার শেষ হলে আমি সেখানে যাব। প্যারিসে আসার পর আর সেখানে যাওয়া হয়নি আমার।
কুইক নিউজ / মোহন / ১৩ নভেম্বর ২০২৫ / দুপুর ২:৩০