বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম কমল ৩৫৭ টাকা সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এইচএসসির প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২৪৭৮৪ শিক্ষার্থী, বহিষ্কার ৭ হজের জন্য প্রাক-নিবন্ধন শুরু : যেসব তথ্য দিতে বলেছে ধর্ম মন্ত্রণালয় ইসলাম সর্বকালের সর্বাধুনিক ও চিরন্তন জীবনব্যবস্থা কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস : প্রধানমন্ত্রী মেক্সিকোর বিপক্ষে হারলেও ‘চিন্তা নেই’ ইংল্যান্ড কোচ টুখেলের, তৈরি আছে ‘অজুহাত’ মেসিকে চিঠি লিখে বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ পেল ছোট্ট মানু সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত, গভীর সাগরে যেতে মানা

অবৈধভাবে উপার্জনকারী যেভাবে তাওবা করবে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : তাওবা অর্থ হলো ফিরে আসা এবং অনুতপ্ত হওয়া। রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘অনুতপ্ত হওয়াই হলো তাওবা।’

(ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২৫২)

উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে যেকোনো পাপ থেকে অবিলম্বে তাওবা করা ফরজ (বাধ্যতামূলক)। (আল জামি লি আহকামিল কোরআন : ১২/২৩৮)

আল্লাহ তাআলা বলেন ‘হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’
(সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)

তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করে কিংবা নিজের প্রতি জুলুম করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে—সে আল্লাহকে অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু পাবে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১১০)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে পাপ থেকে তাওবা করে, সে এমন ব্যক্তির মতো হয়ে যায়, যার কোনো পাপই নেই।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২৫০)

তাওবার ধরন ও শর্ত

১. শুধু বান্দা ও আল্লাহর মধ্যে সীমাবদ্ধ তাওবা; যেমন—মিথ্যা বলা, মদপান করা ইত্যাদি পাপ থেকে তাওবার জন্য তিনটি বিষয় জরুরি—আন্তরিক অনুশোচনা, অবিলম্বে পাপ ত্যাগ করা, ভবিষ্যতে আর কখনো সেই পাপে না ফেরার দৃঢ়সংকল্প করা। এ ধরনের তাওবাকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ তাওবা, যা মূলত হৃদয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, বাহ্যিক কোনো অধিকার এর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

২. অধিকারনির্ভর তাওবা; কিছু পাপের ক্ষেত্রে তাওবা তখন কবুল হয়, যখন মানুষের বা আল্লাহর হক পূর্ণ করা হয়। যেমন—আল্লাহর হক : জাকাত আদায় না করা। এর একমাত্র তাওবা হলো জাকাত আদায় করা আবশ্যক। মানুষের হক : চুরি, আত্মসাৎ বা কারো সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করা।

এর তাওবা কবুলের জন্য ওই জিনিস ফেরত দিতে হবে। যদি মূল জিনিস হারিয়ে যায়, তবে তার সমপরিমাণ অন্য কিছু ফেরত দিতে হবে; সেটিও সম্ভব না হলে এর মূল্য পরিশোধ করতে হবে। যদি কেউ সামর্থ্যহীন হয়, তবে অন্তত সে দৃঢ় ইচ্ছা করবে যে সামর্থ্যবান হলে অবশ্যই ফেরত দেবে। আর উলামায়ে কেরাম একমত যে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করা মহাপাপ, আর এর জন্য তাওবা করা অপরিহার্য। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভক্ষণ কোরো না।’
(সুরা : নিসা, আয়াত : ২৯)

সুতরাং কেউ যদি অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে তার কর্তব্য হলো—

১. আসল মালিককে (সেটি প্রতিষ্ঠানও হতে পারে) ফিরিয়ে দেওয়া, যদি তাকে চেনে এবং সে জীবিত থাকে।

২. মালিকের উত্তরাধিকারীদের দেওয়া, যদি মালিক মারা গিয়ে থাকে।

৩. বৈধ তহবিলে জমা দেওয়া, যদি মালিক অজ্ঞাত হয় বা খুঁজে পাওয়া না যায়।

(আল-ফুরু : ৪/৩৯৮) 

ইমাম কুরতুবি (রা.) বলেন, ১. কারো কাছে যদি অবৈধ সম্পদ থাকে, যেমন—সুদের মাধ্যমে অর্জিত, তাহলে এর তাওবার উপায় হলো—যার কাছ থেকে অন্যায়ভাবে অর্থ নেওয়া হয়েছে, তাকে তা ফিরিয়ে দেওয়া। যদি মালিক অনুপস্থিত থাকে, তবে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা। যদি খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়, তবে তার পক্ষ থেকে তা সদকা করে দেওয়া।

২. যদি কারো সম্পদ অন্যায়ভাবে দখল করা হয়, তবে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে—তার কাছে ফেরত দিতে হবে, না পাওয়া গেলে তার পক্ষ থেকে দান করতে হবে।

৩. যদি কারো কাছে বৈধ ও অবৈধ সম্পদ মিশ্রিত থাকে এবং সে নিশ্চিত না হয় কতটুকু হারাম ও কতটুকু হালাল, তবে তার দায়িত্ব হলো—অনুমান করে নির্দিষ্ট করা কতটুকু অবৈধ। সেই পরিমাণ ফিরিয়ে দেবে বা সদকা করে দেবে। যাতে অবশিষ্ট সম্পদ নিয়ে আর কোনো সন্দেহ না থাকে যে সেটি বৈধ।

৪. যদি কেউ ব্যাপক অন্যায়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করে এবং তার ঋণের পরিমাণ এত বেশি হয় যে সে তা পরিশোধে অসমর্থ হয়, তবে তার তাওবা হলো—তার কাছে যা আছে সব কিছু দরিদ্রদের মধ্যে কিংবা মুসলিম সমাজের কল্যাণে বিলিয়ে দেওয়া। শুধু ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জিনিস নিজের কাছে রাখা—নামাজ আদায়ের জন্য শরীর ঢাকার কাপড় (নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত), আর এক দিনের খাবারের পরিমাণ। কারণ যদি এসব মৌলিক চাহিদা পূরণ না থাকে, তবে সে অন্যের অর্থ থেকেও এগুলো গ্রহণ করতে পারবে, যদিও প্রদানকারী তা অপছন্দ করে। (আল-জামি লি আহকামিল কোরআন : ৩/৩৬৬-৩৬৭) সুতরাং অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ থেকে মুক্তি পাওয়ার সঠিক উপায় হলো আন্তরিকভাবে তাওবা করা এবং সেই সম্পদ তার প্রকৃত মালিক বা তার উত্তরাধিকারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। যদি মালিক অজ্ঞাত থাকে বা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয় অথবা কোনো কারণে তা সরাসরি ফেরত দেওয়া সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে ওই সম্পদ মুসলিম সমাজের জনকল্যাণে ব্যয় করতে হবে। এটি দান করার উদ্দেশ্য হবে মূল মালিকের পক্ষ থেকে সওয়াব পৌঁছে দেওয়া এবং নিজেকে অন্যায় ও গুনাহ থেকে মুক্ত করা। এ ক্ষেত্রে দানকারীর নিজের জন্য কোনো সওয়াব নেই, বরং সওয়াবের হকদার হবেন প্রকৃত মালিকই।

লেখক : গবেষক

কিউএনবি/অনিমা/২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, /সকাল ৬:৩৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit