শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
খালেদা জিয়া কখনো গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি : মির্জা ফখরুল চৌগাছায় এক কৃষক ১০ দিন ধরে নিখোঁজ, সন্ধান পেতে থানায় জিডি “স্বামীর ন্যায্য অধিকার দাবিতে নেত্রকোনায় সংবাদ সম্মেলন” বাবরের না থাকা ভুগিয়েছে পাকিস্তানকে, মন্তব্য সাবেক তারকাদের ধানের শীষে ভোট দেয়ায় ‘মাশুল’ গুনছেন হতদরিদ্ররা! ফুলবাড়ীতে ভিজিএফ চাল বিতরণে বঞ্চনার শিকার বিএনপি সমর্থকরা॥ বীরমুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে উপজেলা প্রশাসনের শ্রদ্ধাঞ্জলী॥ চৌগাছায় মাদক সম্রাট ইসমাইলের ডেরাই সন্ধ্যা নামলেই বসে জুয়ার আসর, প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসীর থানায় অভিযোগ বাংলাদেশ, ভারতসহ ১৬ দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্ত শুরু যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন, আছেন যারা সংসদে বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন, নেতৃত্বে যারা

জিহ্বার জন্য দায়বদ্ধ হোন

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭০ Time View

ডেস্ক নিউজ : আমি আমার মুসলিম ভাই-বোনদের স্মরণ করাতে চাই—বাক্যও এক ধরনের কর্ম, যার ওজন আছে বর্তমান সময়ে এবং যার পরিণতি আছে পরকালেও। সুতরাং নিজের কথাবার্তায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

যেমন আপনি আপনার হাত দিয়ে কাউকে আঘাত করবেন না, তেমনি কাউকে আঘাত করা উচিত নয় আপনার জিহ্বার দ্বারা—না আঘাতের জন্য, না চাটুকারিতার জন্য। মহান আল্লাহ বলেন, ‘শ্রবণ, দৃষ্টি ও হৃদয়—সব কিছুর জবাবদিহি করা হবে।’ (সুরা : আল-ইসরা, আয়াত : ৩৬)

মুয়াজ ইবন জাবাল (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সব বিষয়ের মস্তক হলো ইসলাম, এর স্তম্ভ হলো নামাজ, আর এর চূড়া হলো জিহাদ। তারপর তিনি বলেন, আমি কি তোমাকে সব কিছুর মূল কথা বলে দেব না? আমি বললাম, জি হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল। তিনি তাঁর জিহ্বার দিকে ইশারা করে বলেন, এটা নিয়ন্ত্রণ করো। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমরা যা বলি তারও কি হিসাব হবে?

তিনি বলেন, তোমার মায়ের মৃত্যু হোক, হে মুয়াজ! মানুষকে মুখ থুবড়ে জাহান্নামে ফেলবার আর কী কারণ আছে, তাদের জিহ্বার ফসল ছাড়া?’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৬১৬)

বিশেষভাবে আমি আমার ভাই-বোনদের সতর্ক করতে চাই—অতিরিক্ত ভাষা, বাড়াবাড়ি প্রশংসা এবং অতিরিক্ত নিন্দার ব্যাপারে। বাড়াবাড়ি প্রশংসা ক্ষতিকর, এমনকি যদি সেটি প্রাপ্য হয়। আমাদের কথাবার্তা সব সময় চিন্তিত, সংযত ও ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া উচিত, বিশেষ করে মুসলমানদের জন্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হলো কাউকে মুনাফিক বা কাফির বলে আখ্যা দেওয়া। এসব চূড়ান্ত রায় একমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের এখতিয়ার।

হ্যাঁ, আমর বিল-মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার বলেন, (সৎ কাজে আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ) দায়িত্বের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু কাজ, বক্তব্য বা নীতির সমালোচনা করা বৈধ। কিছু পরিস্থিতিতে মানুষকে তাদের ক্ষতি থেকে বাঁচানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামও উল্লেখ করা যেতে পারে। তবে তাতেও অনুমতি নেই এভাবে ভাবা যে কেউ যদি দু-একটি বিষয়ে ভুল করে, তবে সে সব কিছুতেই ভুল করছে।

আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায়ের সাক্ষী হয়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াও, এবং কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি তোমাদের ঘৃণা যেন তোমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিরত না রাখে। ন্যায়বিচার করো, সেটাই তাকওয়ার নিকটবর্তী। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কাজের খবর রাখেন।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮)

কোনো অবস্থায়ই এমন কাউকে—যে নিজেকে মুসলমান বলে পরিচয় দেয়, কাফির বা মুনাফিক বলা বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে তার ভাইকে বলল, হে কাফির, তবে এ কথা তাদের একজনের ওপর ফিরে যাবে।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

তিনি আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে কুফরির অভিযোগ করে, তা যেন তাকে হত্যা করার সমতুল্য।’ (সহিহ বুখারি)

আমাদের কর্তব্য হলো, এমন শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা। এই ধরনের নিষিদ্ধ অভিযোগ প্রচার বা প্রচলন করা উচিত নয়, কারণ তা অনেক সময় রাগের বশে বা কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক চাপে উচ্চারিত হতে পারে। হ্যাঁ, কোনো অভিযোগকে সমর্থন করার জন্য যেসব তথ্য বা যুক্তি আনা হয়, সেগুলো প্রকাশ ও আলোচনা করা বৈধ এবং অনেক সময় উপকারীও। কারণ তথ্য ও যুক্তির সৎ আলোচনা হলো সেই তথ্য ও যুক্তিকে যাচাই করার যথাযথ উপায়।

কিউএনবি/অনিমা/২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, /সকাল ৭:১৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit