নিহতের ছোট ভাই তৈয়্যব আলী জানায়, সম্ভবত আমার ভাবী প্রেম করতো। এনিয়ে আমার ভাইর মধ্যে সন্দেহ হতে থাকে এবং তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পরে ভাবী রাগ করে তার এক বান্ধবীর কাছে চলে যায়। সেখানে দীর্ঘ ১ মাস থাকে। এরপরে আমার ভাই সেখান থেকে তাকে নিয়ে আসে। পরে আমার ভাই শনিবার রাত ১১.৪৫ মিনিটে আমাকে ফোন করে বলে, তোর ভাবীকে নিয়ে আসছি। সে অন্য ছেলের সাথে কথা বলে। একথা শোনার পরে আমি তাকে বলেছি এনিয়ে তুমি তাকে কিছু বলো না, আমি তোমার বাসায় এসে এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিদেরকে নিয়ে বসে এর সমাধান করে ফেলবো। রোববার বিকেল ৫টায় তাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসি।
স্থানীয়রা বলেন, সোনিয়া বেগম তার স্বামী সন্তান নিয়ে আবুল হোসেন দেওয়ানের টিনশেড বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। আজ বিকেলে ওই বাসায় কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ওই কক্ষের দরজা ভেঙে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সন্তানের মুখ থেকে বিষের ঘন্ধ পাওয়া গেছে ও স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্বামি রুবেল কি কারনে স্ত্রী সন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছেন এমন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় নি।
পুলিশসূত্রে জানা যায়, রাতে নরসিংহপুরের একটি ভাড়া ঘরে স্বামী রুবেল মিয়া (৩৫) স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (৩০) ও ৬ বছরের শিশু সন্তান জামিলার মরদেহ দেখতে পায় প্রতিবেশীরা। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর শহিদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। তিন জনের মধ্যে স্ত্রী সন্তানের মরদেহ খাটের উপর থেকে ও স্বামীর লাশ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা স্ত্রী সন্তানকে হত্যার পরে স্বামী আত্মহত্যা করেছে। তবে কিকারণে এ ঘটনা জানাতে পারেনি পুলিশ। এঘটনায় এলাকায় এক প্রকার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ওই এলাকার টিনশেড বাড়ির একটি রুম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে একজনকে ঝুঁলন্ত অবস্থায় বাকি দুই জনের মরদেহ বিছানা থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্বামী তার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তাদের ময়ণা তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।