সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
‘হজ এজেন্ট কাফেলা কার্ড’ চালু করেছে ইসলামী ব্যাংক শার্শায় চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু: হাসপাতালে ভর্তি ১৪ জন ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে ইউনিয়নে পর্যায়ে সোলার প্যানেল স্থাপন জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় নোয়াখালীর ৪৫০ নারীকে প্রশিক্ষণ ‘তুই কি ছোলা বিক্রি করতে এসেছিস’ বাবর আজমকে ধুয়ে দিলেন ওয়াসিম আকরাম জয়পুরহাটে গৃহবধূ সাজেদা হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন আশুলিয়ায় কাভার্ডভ্যানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ নিহত ৮ আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রিসোর্স মবিলাইজেশন সভা নওগাঁয় সদর উপজেলা পরিষদের এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন ‘ঐতিহাসিক’ ফিফা উইন্ডো শুরু আজ, কী কী হবে এই ১৬ দিনে?

দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হতে ইস্তেগফারের গুরুত্ব

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
  • ৯৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অতীব ক্ষমাশীল আর তিনি তার বান্দাকে বারবার ক্ষমা করেন। তিনি তার বান্দার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখতে চান, তিনি যদি ইচ্ছা করতেন তাহলে সাথে সাথেই শাস্তি দিতে পারেন কিন্তু তিনি তা করেন না, আবার অনেক ক্ষেত্রে করেনও। 

তিনি চান তার বান্দারা যেন নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে পবিত্র করার চেষ্টা করে আর এর জন্য আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমা চায় আর সর্বদা ইস্তেগফারে রত থাকে। আমাদের চলার পথে কিছু না কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েই থাকে, তাই সব সময় আমরা যদি ইস্তেগফারে রত থাতি তাহলে আল্লাহপাক হয়ত আমাদের এই সামান্য ভুলও ক্ষমা করে দিবেন। 

আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী। (সুরা নাসর, আয়াত: ৩)

হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ‘ইস্তেগফার’-এর সাথে আঁকড়ে থাকে (অর্থাৎ ইস্তেগফারে সর্বদা নিয়োজিত থাকে) আল্লাহতায়ালা তাকে সর্ব প্রকার বিপদ-আপদ থেকে উদ্ধারের পথ সৃষ্টি করে দেন আর প্রত্যেক দুরবস্থা থেকে উত্তরণের রাস্তা বের করে দেন আর তাকে ঐ সমস্ত রাস্তায় রিজিক (জীবিকা) দান করেন যা সে ধারণাও করতে পারে না’ (সুনান আবি দাউদ, কিতাবুল বিতর, বাব ফিল ইস্তেগফার)।

আমরা যদি আমাদের অবস্থার পরিবর্তন চাই তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে বেশি বেশি ইস্তেগফার করতে হবে আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আমরা যখন যেই অবস্থাতেই থাকি না কেন, আমরা ইচ্ছা করলেই মহান আল্লাহপাককে স্মরণ করতে পারি। আমরা যদি আমাদের দোষ-ত্রুটিকে ক্ষমা করাতে চাই তাহলে ইস্তেগফারের বিকল্প নেই। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আমি ভুল করেছি, তারপর আমার মাঝে অনুসুচনা হলো আর আমি এর জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ক্ষমা চাইলাম এবং ইস্তেগফার করলাম আর আল্লাহতায়ালাও আমাকে ক্ষমা করে দিলেন, তাই বলে বার বার ভুল করবো আর খোদার কাছে ক্ষমা চাইতে থাকবো তা ঠিক নায়। 

মুমিন একই ভুল বার বার করেন না। আমাদেরকে এমনভাবে ইস্তেগফার করতে হবে যেন আমার দ্বারা এমন ভুল দ্বিতীয়বার আর কখনও সংঘটিত না হয়। এছাড়া সর্বদা মহান আল্লাহতায়ালার কাছে আমাদেরকে এই প্রার্থনাই করতে হবে যেভাবে আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, 

রাব্বানা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম-তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানা কুনান্না মিনাল খাসেরিন’ অর্থাৎ ‘হে আমাদের প্রভু-প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা নিজেদের প্রাণের ওপর জুলুম করেছি আর তুমি আমাদের ক্ষমা না করলে এবং আমাদের ওপর কৃপা না করলে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব (সুরা আরাফ, আয়াত: ২৩)।

আমরা যেন সর্বদা মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও তওবা করতে থাকি এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আবার আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘ওয়া আনেসতাগফিরু রাব্বাকুম সুম্মা তুবু ইলাইহে’ অর্থাৎ ‘তোমরা তোমাদের প্রভু-প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাইবে, তার কাছে সবিনয়ে তওবা করবে’ (সুরা হুদ, আয়াত: ৩)।

তাই আমাদেরকে সব সময় আল্লাহপাকের কাছে আমাদের পাপ সমূহের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে আর তার শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে। তিনি আমাদেরকে না চাইতেও কত কিছুই না দান করছেন। আমরা যদি এসবের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন না করি তাহলে আমরা অকৃতজ্ঞ হিসেবে পরিগণিত হব। 

মহানবি (সা.) বলেন, কেউ নিয়মিত ইস্তেগফার করলে আল্লাহতায়ালা তাকে সব বিপদ থেকে মুক্তি দেবেন, সকল দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। (আবু দাউদ)

হাদিসে আরো এসেছে, হজরত নুমান বিন বশীর (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবি হজরত মুহুম্মদ (সা.) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘যে ব্যক্তি স্বল্পে তুষ্ট হয় না সে অধিক পেলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। আর যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে না সে আল্লাহতায়ালার করুণারাজিরও কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারে না। আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহরাজির উত্তম স্বীকারোক্তি প্রকাশ করাটাও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন। আর আল্লাহতায়ালার আশিস সমূহের উত্তম স্বীকারোক্তি প্রকাশ না করাটা অকৃতজ্ঞতা’ (মুসনাদ আহমদ বিন হাম্বল)।

অপর একটি হাদিসে হজরত মায়াজ বিন জিবল (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তার হাত শক্ত করে ধরলেন আর বললেন, ‘হে মায়াজ! আল্লাহর কসম! সত্যিই আমি তোমাকে ভালোবাসি’ অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, হে মোয়াজ! আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তুমি প্রত্যেক নামাজের পরে এই দোয়া করতে ভুলে যেও না, ‘আল্লাহুম্মা আইন্নি আ’লা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদিকা’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে শক্তি-সামর্থ্য দান কর যেন আমি তোমার যপ-গাঁথা আবৃত্তি করতে পারি, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি আর তোমারই ইবাদত আরো উত্তম রূপে করতে সক্ষম হই’ (সুনান আবি দাউদ, কিতাবুল বিতর, বাব ফিল ইস্তেগফার)। 

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সব সমস্যা দূর করে দিন আর আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন, আমিন।

লেখক: কলামিস্ট

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ মে ২০২৫, /রাত ১০:২৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit