সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩১ অপরাহ্ন

অফিসে কাজের ফাঁকে মূল্যবান ৪ জিকির

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : মাওলানা শরিফ হাসান শাহীন

আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ  তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। (সুরা বাকারা:১৫২) অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা  বলেন,

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্ত হয়। (সুরা রাদ:২৮) জিকির শুধু জবান চালানো নয়; এটি হৃদয়ের পরিশুদ্ধি, আত্মার জাগরণ এবং ঈমানের শক্তি সঞ্চয়ের মাধ্যম। নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতকে কিছু সংক্ষিপ্ত অথচ অপরিসীম ফজিলতপূর্ণ জিকির শিখিয়েছেন। আজ আমরা তন্মধ্যে চারটি জিকির সম্পর্কে জানব, যেগুলোর প্রতিটি বান্দার জীবনে বরকত, শান্তি ও আল্লাহর নিকটতা বয়ে আনে।

১. أستغفرُ الله (আস্তাগফিরুল্লাহ) আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। 

ফজিলত ও তাৎপর্য
ইস্তেগফার হলো বান্দার আত্মশুদ্ধি ও পাপমোচনের শ্রেষ্ঠ উপায়। মানুষ যতই সৎ হোক না কেন, তবুও তার জীবনে গুনাহ ও ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকা কঠিন। আল্লাহ তাআলা নিজেই বলেছেন,

وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ আল্লাহ ছাড়া কে আছেন যিনি গুনাহ ক্ষমা করবেন? (সুরা আল ইমরান:১৩৫) নবীজি করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করে, আল্লাহ তার প্রতিটি দুঃখ দূর করেন, প্রতিটি সংকট থেকে মুক্তির পথ করে দেন এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিক দান করেন। (ইবন মাজাহ:৩৮১৯) তিনি নিজে প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার ইস্তেগফার করতেন। (সহিহ বুখারি:৬৩০৭)

১.গুনাহ মাফ হয় ২.রিজিক বৃদ্ধি পায় ৩.দুঃখ-কষ্ট দূর হয় ৪.অন্তরে প্রশান্তি আসে। ২. اللهم صل على محمد وعلى آل محمد হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তার পরিবারবর্গের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।

ফজিলত ও তাৎপর্য
দরুদ শরিফ এমন এক জিকির যা ঈমানের নিদর্শন এবং নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন। (সহিহ মুসলিম:৪০৮)

আরেক হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি বেশি দরুদ পাঠ করে, কিয়ামতের দিন সে আমার নিকটবর্তী হবে। (সুনানুত তিরমিজি ৪৮৪)
১. আল্লাহর রহমত লাভ ২.দোয়া কবুল হওয়া সহজ হয় ৩.নবীজির সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সান্নিধ্য লাভ ৪.হৃদয়ে ঈমানের উষ্ণতা জাগে

৩. يا حي يا قيوم (ইয়া হাইয়্যু ইয়্যা ক্বইয়্যূম) হে চিরঞ্জীব ও সর্বাধারক আল্লাহ!
ফজিলত ও তাৎপর্য
এই দুই নামের মধ্যে আছে আল্লাহর মহাশক্তির প্রতিফলন। আল-হাই  অর্থ: যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করেন না। আল-ক্বইয়্যূম  অর্থ:যিনি সব কিছুর ধারক ও রক্ষাকারী। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো বিপদে পড়তেন, তখন বলতেন,

يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ  হে চিরঞ্জীব ও সর্বাধারক! তোমার রহমতের মাধ্যমে আমি সাহায্য চাই। (সুনানুত তিরমিজি:৩৫২৪)

১. বিপদ ও দুঃসময়ে সাহায্যের উৎস ২. কাজের বরকত বৃদ্ধি ৩. দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে ৪. يا ذا الجلال والإكرام (ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম) হে মহিমা ও দয়ার অধিকারী আল্লাহ!

ফজিলত ও তাৎপর্য

এটি এমন এক নাম যা আল্লাহর মহিমা ও করুণা উভয়কেই প্রকাশ করে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা يا ذا الجلال والإكرام বলো; এই নামের মাধ্যমে দোয়া করলে তা কবুল হয়। (সনানুত তিরমিজি ৩৫৪৪) অন্য হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এই নাম দ্বারা আল্লাহকে ডাকে, ফেরেশতারা তার জন্য রহমত প্রার্থনা করে। (বায়হাকি, দা’ওয়াতুল কবির)

১. দোয়া কবুল হওয়া ২. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ৩. অন্তরে বিনয় ও ভক্তি বৃদ্ধি

জিকির হলো ঈমানদারের জীবনের আলো, আত্মার প্রশান্তি ও দুঃখের ওষুধ। যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা, অফিসে বা পথে এই চারটি জিকির করে, সে আল্লাহর নিকট বর্তি হয়ে যায়, তার অন্তর নরম হয়, গুনাহ দূর হয় এবং জীবনে আসে অফুরন্ত বরকত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এই চারটি জিকির নিয়মিত করার তাওফিক দিন এবং এর মাধ্যমে আমাদের অন্তরগুলোকে পরিশুদ্ধ করে দিন। আমিন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৩০ অক্টোবর ২০২৫,/বিকাল ৫:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit