আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিন পাল্টাপাল্টি প্রাণঘাতী সংঘাত চলার পর আজ শনিবার বিকেলে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। তবে যুদ্ধবিরতি হলেও দুই দেশের সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত থাকছে। দুই দেশের চারটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ কথা জানিয়েছে।
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিচুক্তি স্বাক্ষর করে ভারত-পাকিস্তান। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবেশী এই দুই দেশ নিজেদের মধ্যে সিন্ধু নদ ও তার উপনদীগুলোর পানি বণ্টন নিয়ন্ত্রণে সম্মত হয়েছিল।
গত ২২ এপ্রিল ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুক হামলার পর সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয় নয়াদিল্লি। ভারতের অভিযোগ, এই হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান তা নাকচ করেছে। ফলে, ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কার্যত স্থগিত এখনও। দুই পক্ষই এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে যাচ্ছে শিগগির।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১০ মে) ভারত ও পাকিস্তান সামরিক দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা এক আলোচনায় সমুদ্র, আকাশ ও স্থলপথে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধে সম্মত হলেও ৬৫ বছর আগের সিন্ধু পানিচুক্তি পুনর্বহাল হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
মূলত, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় সিন্ধু নদী ও এর শাখানদীগুলোর (সিন্ধু, চন্দ্রভাগা, শতদ্রু, ঝিলাম, ইরাবতী ও বিপাশা) পানিবণ্টন নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু চুক্তি হয়। এই চুক্তির সুবিধাভোগী ছিল পাকিস্তানের প্রায় কয়েক কোটি মানুষ। কিন্তু, পেহেলগাম হামলার জেরে ঐতিহাসিক ওই চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর ফলে পাকিস্তানে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে, যা দেশটির কোটি কোটি মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
চুক্তি স্থগিতের ফলে ইতোমধ্যে চেনাব নদীর পাকিস্তান অংশ শুকিয়ে গেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেল রোববার (৪ মে) চেনাবের পানিপ্রবাহ ছিল ৩৫ হাজার কিউসেক। কিন্তু, সোমবার (৫ মে) সকালে তা কমে মাত্র ৩ হাজার ১০০ কিউসেক হয়ে গেছে।
পাঞ্জাব সেচ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, রোববার ভারতীয় কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে চেনাব নদী থেকে পানি প্রত্যাহার শুরু করে। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তারা ভাটির দিকে (পাকিস্তান অংশ) প্রায় পুরো চেনাব নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে ভারত আমাদের পানি ব্যবহার করছে। তারা তাদের বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো ভরাট করছে, যা চেনাব অববাহিকায় অবস্থিত। তিনি আরও বলেন, সিন্ধু পানিচুক্তি বাতিল একটি গুরুতর লঙ্ঘন। তারা এমন কাজ করতে পারে না।
কিউএনবি/আয়শা/১১ মে ২০২৫, /রাত ৮:০২