শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন

সমুদ্রসম্পদ সুরক্ষা ও সুনীল অর্থনীতি বিকাশে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
  • ৫০ Time View

ডেস্ক নিউজ : সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সুনীল অর্থনীতি আগামী দিনের বাংলাদেশের সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষা, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস উদযাপন উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক বাস্তবতায় সমুদ্র কেবল ভৌগোলিক সীমানার অংশ নয়; বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্যিক সংযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জাতীয় কৌশলগত সক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই প্রেক্ষাপটে যথাযোগ্য গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬’ উদযাপনের উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে সমুদ্র-সংক্রান্ত তথ্যের আধুনিক, নিরাপদ, নির্ভুল ও কার্যকর আদান-প্রদান নিশ্চিত করা শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের প্রতিফলন নয়: এটি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এছাড়া, তথ্যের দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকা কেবল একটি ভৌগোলিক পরিসীমা নয়; এটি আমাদের অর্থনৈতিক শক্তি, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এ সমুদ্রসীমায় রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিতকরণ, সমুদ্রতলের সঠিক মানচিত্র প্রণয়ন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের পরিকল্পিত উন্নয়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে নৌ চলাচলের ঝুঁকি হ্রাস, বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক অর্থনীতির বিকাশ ত্বরান্বিত করা সম্ভব হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষা, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে সমুদ্রসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের আধুনিকায়ন, উন্নত প্রযুক্তির সংযোজন, তথ্যব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল হাইড্রোগ্রাফি, জিওস্পেশাল ডাটা ব্যবস্থাপনা এবং স্বয়ংক্রিয় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। একই সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ, ডাটা বিশ্লেষণ এবং তথ্য ব্যবস্থাপনায় পারদর্শী জনবল তৈরি করতে হলে প্রশিক্ষণ, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি এর জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

‘আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত, সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি। সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। এর মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব এবং সুনীল অর্থনীতি হতে পারে আগামী দিনের বাংলাদেশের সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি।’

কিউএনবি/অনিমা/২০ জুন ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:১০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit