বিনোদন ডেস্ক : বগুড়ার আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, বিয়ে ও নায়িকা বানানোর আশ্বাসে তাকে ধর্ষণ, নির্যাতন, টাকা আত্মাসাৎ ও গর্ভপাত করা হয়েছে।
গত রোববার হিরো আলমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেন ওই ভুক্তভোগী। জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক বাদীর জবানবন্দি নিয়ে অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।
হিরো আলম বাদে অভিযুক্তরা হলেন— তার মেয়ে আলো বেগম, সহকারী আল আমিন, আহসান হাবিব সেলিম, আবদুল মালেক ও মালেকের স্ত্রী জেরিন। আদালতের পিপি আলী আজগর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পিবিআই বগুড়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. মমতাজুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আদালতের কোনো নির্দেশ হাতে পায়নি। নির্দেশনা এলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’
অভিযোগে ওই তরুণী জানান, হিরো আলম তাকে ছোট পর্দার নায়িকা বানানোর প্রলোভন ও বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরে এক মাওলানা ডেকে তাকে বিয়ে করেন। বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার করেন। একপর্যায়ে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। একইসঙ্গে শর্ট ফিল্মের কথা বলে তার থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল ভুক্তভোগী তরুণীকে বগুড়ার নিজ বাড়িতে নিয়ে যান হিরো আলম। সেখানে তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। রাজি না হওয়ায় গত ২১ এপ্রিল অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে নিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে সেখানে তার গর্ভপাত হয়। গত ২৪ এপ্রিল থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে হিরো আলম বলেন, ‘আমি ওই নারীকে চিনি না। হয়রানি করতে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। বুধবার বিকালে আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করবেন।’
কিউএনবি/আয়শা/০৬ মে ২০২৫, /বিকাল ৫০:৪০