শান্তা ইসলাম নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। নারীলোভ, দুর্নীতি, স্বেচ্ছারিতা ও অর্থআত্মসাতের অভিযোগে বুধবার সকালে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে বিদ্যালয় মাঠে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে তারা। পরে প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ করে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার কলমাকান্দার সিধলীতে পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এমপিওভুক্ত হয় ১৯৮৪ সালে। বিদ্যালয়ে ৪১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এরমধ্যে ছাত্র-৩৬৫জন ছাত্রী ৪৫জন। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ২০২০ সালে মৃত্যুবরণ করলে পদটি শূন্য হয়। পরে ২০২২ সালে এপ্রিল মাসে আব্দুল লতিফ প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। দশম শ্রেনির ছাত্র আরিফুল ইসলাম, ইফরানুল হাসান রাফি, নবম শ্রেনির সোহাগ আকন্দ ও সেজান মাহমুদ বলেন, প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ একজন নারীলোভী ও দুর্নীতি পরায়ন লোক। তাকে অপসারণ করা না হলে এই ঐতিহ্যবাহী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়টি ধ্বংস হয়ে যাবে।
দশম শ্রেনির ছাত্রী সাথী আক্তার ও শিমু আক্তার বলেন, গত বছর (২০২৩ সালে) বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফুসলিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন প্রধান শিক্ষক। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী গর্ভবতী হয়ে গেলে তার অভিভাবক জানতে পারেন। কিন্তুরাজনৈতিক প্রভাবকাটিয়ে মেয়ে পরিবারকে হুমকি ধমকি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন তিনি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। অনতিবিলম্বে প্রধান শিক্ষককে অপসারণ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করতে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ২০২৩ সালে বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে পরিবারের অজান্তে মোবাইল কিনে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্যারের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে শালিস বৈঠকের মাধমে বিষয়টি মীমাংসা হয়। পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো এড়িয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে ফেরানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা বলছে হ্যাড স্যারের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবে না।
তবে তিনি প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক নিজেও এ পদে প্রার্থী ছিলেন। তখনকার সরকার দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোটা অংকের ঘুস দিয়ে চাকরি নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এমনকি আমাকে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতেও দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান, তার মা অসুস্থ্য। ক’দিনের ছুটি নিয়েছেন। শুনেছেন শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। কিন্তু কেন করেছে, কি কারণে করেছে, তিনি কিছু জানেন না। বিদ্যালয়ে গেলে বলতে পারবেন।
কিউএনবি/আয়শা/২৮ অগাস্ট ২০২৪,/বিকাল ৫:২৫