ডেস্ক নিউজ : এটি একদিকের শুরু অংশ পর্যটন জোন কলাতলী, একই সঙ্গে মোহাজেরপাড়া, হাসপাতাল সড়ক, স্টেডিয়াম পাড়া, ঘোনারপাড়াও। এটি শহরের সার্কিট হাউস, বাহারছাড়া এলাকা থেকে মিশে গেছে খাদ্যগুদাম সংলগ্ন এলাকা হয়ে বাঁকখালী নদীতে। কিন্তু এ নালাটির ওপরেই বাহারছড়ার অংশে তৈরি হয়েছে কক্সবাজার সরকারি গণগ্রন্থাগার ভবন। যে ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে ২৩ বছর আগে ২০০০ সালে। এ ভবনটির নিচেই রয়েছে নালাটি।
তার কাছাকাছি এলাকায় নালার অংশ দখল করে রয়েছে ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ৭-৮টি বসত ঘরের অংশ। আর খাদ্যগুদাম সংলগ্ন এলাকা হয়ে বাঁকখালী নদী মিশে যাওয়ার অংশটিতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি। এ নালার ওপর দিয়ে খাদ্যগুদামের গেটে তৈরি করা হয়েছে অনুমানিক ২০ ফুটে দৈঘ্যের একটি কালর্ভাট। ওই কালভার্টটির নিচে দক্ষিণে দেখা গেছে নালাটি অনুমানিক ২০ ফুটে। কিন্তু কালভার্টের উত্তরে এসেই তা হয়ে গেছে অর্ধেক বা ১০ ফুট। ওই অংশের পশ্চিমে তৈরি হয়েছে একটি রাস্তা আর অসংখ্য বসতঘর। আর ওই রাস্তাটিও পৌরসভার অর্থায়নের তৈরি।
রোববার বেলা ১২ টায় কক্সবাজারের নালার সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে মাঠে নামে কক্সবাজার পৌর পরিষদ। পৌর মেয়র মো. মাহাবুবুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে দুপুর ২ টা পর্যন্ত টানা অভিযানটি ছিল এ গুরুত্বপূর্ণ নালাটি ঘিরে।গত বুধবার (১০ জুলাই) রাত থেকে কক্সবাজারে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়। শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল ওই বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলাজুড়ে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। শহরের প্রধান সড়ক, উপসড়ক তলিয়ে বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ে পানি। যে জলাবদ্ধতা আগে দেখেনি শহরবাসী। ফলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন শহরবাসী।
তিনি পৌর মেয়রকে অবহিত করেন এটি সরকারি ভবন এবং এটির কোনো অংশ ভাঙা যাবে না। পৌর মেয়র বিষয়টি গুরুত্ব না দিলে এই কর্মকর্তা ফোনে বিষয়টি নানাজনকে অবহিত করেন। যার কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থলে আসেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মনজুর আলম। এনডিসি এসেই কথা বলেন পৌর মেয়রের সঙ্গে। নালার বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে তিন দিনের সময় চেয়ে উচ্ছেদ বন্ধ রাখার কথা বললে ওখানেই বন্ধ হয়ে যায় ভাঙ্গার কাজটি।
ঘটনাস্থলে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মনজুর আলম জানান, জেলা প্রশাসক বিষয়টি দেখতে তাকে পাঠিয়েছেন। বিষয়টি তিনি ফিরে জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন এবং জেলা প্রশাসক সিদ্ধান্ত দেবেন। এরপর উচ্ছেদ দলটি বাহারছড়া অংশে থাকা ৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ৭-৮টি বসত ঘরের অংশ বিশেষ ভেঙে দেন এবং কয়েকজনকে দ্রুত দখল ছাড়তে নির্দেশ দেন। এরপর দলটি যান খাদ্যগুদাম সংলগ্ন বাঁকখালী নদীর অংশে। ওখানেও কয়েকটি বসতি উচ্ছেদ করে অন্যদের দ্রুত সরে যাওয়ার নিদের্শ দেয়া হয়।
ওই সময় পৌর মেয়র মো. মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী জানান, কাগজপত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ নালাটি ৬০ ফুটের বেশি। কিন্তু এটি দখল হয়েছে ক্রমাগত ১০-১৫ ফুটে চলে এসেছে। এসব দখল উচ্ছেদ করে নালাকে আগের অবস্থায় ফিরে নেয়া হবে। এতে কোনো প্রকার বাধা মানা হবে না। আপাততে কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সময় চেয়েছেন। তাদের ৩ দিনের সময় দেয়া হল। ৩ দিন পর আবারও একই অংশে অভিযান পরিচালিত হবে। এখানে পৌরসভার অর্থে কিছু হলে তাও উচ্ছেদ করা হবে।
কিউএনবি/আয়শা/১৪ জুলাই ২০২৪,/বিকাল ৫:৪৪