বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ন

চৌগাছায় দিঘড়ি দাখিল মাদরাসায় সরকারের বাৎসরিক ব্যয় অর্ধ কোটি টাকা এ বছর দাখিল পাশ করেছে মাত্র দুই জন !

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২ জুন, ২০২৪
  • ১৪১ Time View

এম এ রহিম ,চৌগাছা, (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় দিঘড়ি দাখিল মাদরাসায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাবদ সরকারের প্রতি বছর ব্যয় অর্ধ কোটি টাকা। তবে এ মাদ্রাসার লেখাপড়ার মান নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।২০২৪ সালে এ মাদরাসা থেকে দাখিল পাশ করেছে মাত্র দুই জন শিক্ষার্থী!।তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, দিঘড়ি দাখিল মাদরাসাটি উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের দিঘড়ি গ্রামে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠার সময় থেকে এমপিওভূক্তির সকল নীতিমালায় উত্তীর্ণ না হয়েও বিশেষ কারণে এমপিওভূক্ত হয়ে যায় মাদরাসাটি। এমপিওভুক্ত হওযার পর থেকে শিক্ষক কর্মচারীদের নিয়মিত বেতনভাতা দিয়ে আসছে সরকার। প্রতিষ্ঠাকালিন সময় থেকে প্রতিষ্ঠানটির সুপারিন্টেনডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছেন শাহানাজ পারভীন। শুরু থেকেই মাদরাসাটিতে লেখাপড়ার মান ভালো ছিলনা। কোন রকমে জোড়াতালি দিয়ে চলছে আসছে পাঠদানের কার্যক্রম। মাদরাসার সুপার শাহানাজ পারভীনের বিরুদ্ধে রয়েছে নানাবিধ অভিযোগ। মাদরাসায় অনুপস্থিত থাকা থেকে শুরু করে, কমিটি গঠনে অনিয়ম, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কর্মচারী নিয়োগসহ এমন কোন অনিয়ম নেই যা তিনি করেন না।সুপারের এসব অনিয়মের ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে শুরু হয় গোলমাল-গ্রুপিং ও রেশারেশি। গ্রুপিংয়ের ফল গিয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার উপর। এতদিন যাবৎ কোন রকমে গোল ঠেকিয়ে আসলেও ২০২৪ সালে দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চরমভাবে ধ্বস নামে। এ সেশনে মাদরাসাটি থেকে ২৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এরমধ্য থেকে মাত্র ২ জন শিক্ষার্থী কোন রকমে পাশ করে। বাকি ২৭ জন শিক্ষার্থী ফেল করে। অর্থাৎ পাশের হার ছিল শতকরা সাত জন অথচ বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে ২০২৪ সালে দাখিল পরীক্ষায় পাশের হার ছিল শতকরা ৮০ জন। মাত্র ২ জন শিক্ষার্থী পাশ করা সত্ত্বেও এ মাদরাসার শিক্ষক কর্মচারীরা বহাল তবিয়তে বেতনভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন।মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ১৩ জন শিক্ষক কর্মচারী বিশিষ্ট একটি দাখিল মাদরাসার শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে সরকারের ব্যয় হয় ৩ লাখ ৯১ হাজার ৫’শ ৬৬ টাকা। এছাড়া দুটি ঈদ বোনাস ও একটি বৈশাখী ভাতা বাবদ ব্যয় হয় আরো ২ লাখ ৯৩ হাজার ৬’শ ৭৪ টাকা। সবমিলিয়ে প্রতি বছর একটি দাখিল মাদরাসার কেবলমাত্র শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের ব্যয় হয় কমপক্ষে ৪৯ লাখ ৯২ হাজার ৪’শ৬৬ টাকা। কোন কোন মাদ্রাসায় টাকার পরিমান আরো বেশি। অর্থাৎ সরকারের হিসাব অনুযায়ী দিঘড়ি দাখিল মাদরাসায় ২০২৩ সালে সরকারের ব্যয় হয়েছে অর্ধ কোটি টাকারও বেশি কিন্তু অর্ধ কোটি টাকা ব্যয় করে সরকার হাতে পেয়েছে মাত্র দুই জন শিক্ষার্থী। তার মানে দিঘড়ি দাখিল মাদরাসার একেক জন শিক্ষার্থীর পিছনে সরকারের বাৎসরিক ব্যয় হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। মাদ্রাসাটিতে এতবড় অনিয়ম হলেও তা যেন দেখার কেউ নেই।এ ব্যাপারে জানার জন্য মাদরাসার সুপার শাহানাজ পারভীনের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কিউএনবি/অনিমা/০২ জুন ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:২৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit