আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গত কয়েকমাস থেকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে অনেক দেশ। বন্ধু আমেরিকাও চেষ্টা করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত রাজি করাতে পারেনি নেতানিয়াহুকে। তবে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ভারতীয় বিচারক রায় দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারত।
ইসরাইল অবশ্য আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায়কে উড়িয়ে দিয়েছে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তার ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক আদালত শুক্রবার জানায়, ইসরাইলকে অবিলম্বে গাজা ভূখণ্ডে প্রাণঘাতী হামলা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে দিকেও নজর রাখতে হবে নেতানিয়াহুর দেশকে।
আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের মোট ১৫ জন বিচারকের মধ্যে ১৩ জনই ইসরাইলের বিরুদ্ধে রায় দেন। ওই বিচারকমণ্ডলীর মধ্যে থাকা ইসরাইল এবং উগান্ডার এক বিচারক কেবল বিরুদ্ধে মত দেন। এই ১৩ জন বিচারকের এক জন হলেন দলবীর ভান্ডারি। তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের প্রতিনিধি। দলবীরও অন্য ১২ জন বিচারকের সঙ্গে ইসরাইলের বিরুদ্ধে রায় দেন।
দলবীরের জন্ম ১৯৪৭ সালে, রাজস্থানের জোধপুরে। আইনজীবী হিসাবে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন তিনি। হয়েছিলেন বোম্বায় হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি। পদোন্নতি হওয়ার পর ২০০৫ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হন।
২০১২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের সঙ্গে যুক্ত দলবীর। গণহত্যার অভিযোগ, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ, সার্বভৌমত্ব অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক মামলা শুনেছেন তিনি। ২০১৪ সালে দলবীরকে পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করে ভারত সরকার। দলবীর যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আইনের ডিগ্রি অর্জন করেন, শিকাগোর সেই নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ১৫০ বছরের শ্রেষ্ঠ ১৫ জন সাবেকের তালিকায় রেখেছে।
শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণাধীন আন্তর্জাতিক আদালত জানিয়েছে, গণহত্যায় অভিযুক্ত ইসরাইল। বিশ্বের শীর্ষ আদালতটির তরফে আরও জানানো হয়েছে, গাজায় মিশর লাগোয়া রাফা সীমান্তের কাছে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় অবিলম্বে যুদ্ধ স্থগিত রাখতে হবে ইসরাইলকে।
নেদারল্যান্ডসের রাজধানী দ্য হেগ শহরে অবস্থিত এই আদালতের প্রেসিডেন্ট নওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, রাফার বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ। কিন্তু আদালতের রায় মেনে চলতে বাধ্য করার বিষয়ে কোনো পরিকাঠামো বা আন্তর্জাতিক বিধি এখনো পর্যন্ত নেই। আইনের এই ফাঁককেই আপাতত হাতিয়ার করছে ইসরাইল। সে দেশের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্যদের বক্তব্য, তারা আদালতের কোনো নির্দেশই মানবেন না।
ভারত অবশ্য ইসরাইল-হামাস সংঘাতে সরাসরি কোনো পক্ষ নেয়নি। তবে সম্প্রতি বিএসএফ-এর একটি আলোচনাসভায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ইসরাইলের প্রশংসা করেছেন। ডোভালের বক্তব্য, হামাস কিংবা অন্য ‘সন্ত্রাসবাদীদের’ হামলা সত্ত্বেও ইসরাইল তাদের সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখছে। ইসরাইলের এই সাফল্যের নেপথ্যে তাদের ‘গুপ্তচর সংস্থা’র বিশেষ অবদান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডোভাল।
কিউএনবি/আয়শা/২৮ মে ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:৪০