স্পোর্টস ডেস্ক : রোববার (৭ এপ্রিল) ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ২৩৫ রান তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রানে থামে দিল্লির ইনিংস। তাতে বৃথাই যায় ত্রিস্তিয়ান স্টাবসের ৭ ছক্কা ও ৩ চারের মারে ৭১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি। মুম্বাইয়ের হয়ে ৩৪ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন জেরাল্ড কোয়েতজি।
রান তাড়ায় নেমে শুরুতে ডেভিড ওয়ার্নারকে হারালেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে লড়াই জমিয়ে তোলেন পৃথ্বি শ ও অভিষেক পোরেল। দলীয় ২২ রানে ব্যক্তিগত ৮ রানের ইনিংস খেলে রোমারিও শেফার্ডের শিকার হয়েছিলেন ওয়ার্নার। এরপর পৃথ্বি ও অভিষেক মিলে ৮৮ রানের জুটি গড়েন। তাদের ব্যাটে চড়ে একাদশ ওভারেই শতরান তুলে নেয় দিল্লি। ১২তম ওভারে তাদের জুটি ভাঙেন জসপ্রিত বুমরাহ। ৪০ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৬ রান করে বোল্ড হন পৃথ্বি।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন অভিষেক। তাকে সঙ্গ দিতে এসে ঝড় তোলেন স্টাবস। তবে এ জুটি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই আঘাত হানেন বুমরাহ। ৩১ বলে ৫ চারের মারে ৪১ রান করে ১৫তম ওভারে আউট হন অভিষেক। লড়াই চালিয়ে যান স্টাবস। চার-ছক্কার ঝড় তুলে জিইয়ে রাখেন দলের আশা। কিন্তু তাকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক রিশাভ পন্ত। ৩ বলে খেলে ১ রান করে কোয়েতজির শিকার হন তিনি। দলের জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ২৪ বলে ৮২ রান।
১৭তম ওভারে দুই চার ও এক ছক্কায় দলকে ১৯ রান এনে দেন স্টাবস। ১৯ বলে ৪ ছক্কা ও ৩ চারের মারে তিনি তুলে নেন ফিফটি। তবে যোগ্য সঙ্গীর অভাবে ম্যাচে অঘটন ঘটাতে পারেননি তিনি। শেষ ওভারে তো স্ট্রাইকই পাননি প্রোটিয়া ব্যাটার। এ ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন কোয়েতজি। ২৫ বলে ৭ ছক্কা ও ৩ চারের মারে ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন স্টাবস।
এদিন ওয়াংখেড়ে তে অবশ্য ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন রোমারিও শেফার্ড। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান ছিল মুম্বাইয়ের স্কোরবোর্ডে। শেষ ওভারে বোলার এনরিখ নরকিয়াকে তুলোধুনো করেন শেফার্ড। ৪ ছক্কা ও ২ চারের মারে এ ওভারে তুলে নেন ৩২ রান। শেষ পর্যন্ত এ রানই কাল হয়ে দাঁড়ায় দিল্লির জন্য। ১০ বলে ৪ ছক্কা ও ৩ চারের মারে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন শেফার্ড।
অবশ্য দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়ার পথে দারুণ ভূমিকা ছিল টিম ডেভিডেরও। ২১ বলে ৪ ছক্কা ও ২ চারের মারে ৪৫ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এর আগে ব্যাট করতে নেমে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও ইশান কিশান। ২৭ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় রোহিত ৪৯ আর ২৩ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪২ রান করেন ইশান। ২ উইকেট তুলে নিলেও ৪ ওভার বল করে ৬৫ রান খরচ দেন নরকিয়া।
এ ম্যাচ দিয়ে আসরে নিজেদের জয় খরা কাটিয়েছে মুম্বাই। রোহিত শর্মার স্থলাভিষিক্ত হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বে খেলতে নেমে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে তারা। আসরের প্রথম তিন ম্যাচে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি হেরেছিল গুজরাট টাইটান্স, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে।
কিউএনবি/আয়শা/০৭ এপ্রিল ২০২৪,/রাত ৮:২৮